ইয়ান হোম | |
---|---|
Ian Holm | |
![]() ২০০৪ সালের আগস্টে এডিনবরায় হোম | |
জন্ম | ইয়ান হোম কাদবার্ট ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৩১ |
মৃত্যু | ১৯ জুন ২০২০ লন্ডন, ইংল্যান্ড | (বয়স ৮৮)
জাতীয়তা | ব্রিটিশ |
পেশা | অভিনেতা |
কর্মজীবন | ১৯৫৭-২০১৪ |
স্যার ইয়ান হোম কাদবার্ট, সিবিই (ইংরেজি: Ian Holm Cuthbert; ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৩১ - ১৯ জুন ২০২০)[১] ছিলেন একজন ইংরেজ অভিনেতা। তিনি মঞ্চ ও চলচ্চিত্রে কাজ করে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে দ্য হোমকামিং মঞ্চনাটকে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ চরিত্র অভিনেতা বিভাগে টনি পুরস্কার অর্জন করেন এবং ১৯৯৮ সালে কিং লিয়ার মঞ্চনাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে লরন্স অলিভিয়ে পুরস্কার অর্জন করেন। দ্য বোফর্স গান (১৯৬৯) ও চ্যারিয়টস্ অব ফায়ার (১৯৮১) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দুইবার শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা বিভাগে বাফটা পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং দ্বিতীয় চলচ্চিত্রের জন্য একবার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের মনোনীত হয়েছেন।
তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ভূমিকা হল অ্যালিয়েন (১৯৭৯)-এ অ্যাশ, ফ্রম হেল (২০০১)-এ স্যার উইলিয়াম গাল, দ্য ফিফথ এলিমেন্ট (১৯৯৭)-এ ভিটো কর্নেলিয়াস, এবং দ্য লর্ড অব দ্য রিংস চলচ্চিত্র ধারাবাহিক ও দ্য হবিট চলচ্চিত্র ধারাবাহিকে হবিট বিলবো ব্যাগিন্স।
ইয়ান হোম কাদবার্ট ১৯৩১ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর এসেক্সের গুডমেয়েসে জন্মগ্রহণ করেন।[২] তার পিতা জেমস হার্ভি কাদবার্ট একজন মনোরোগবিদ এবং মাতা জিন উইলসন (প্রদত্ত নাম: হোম) সেবিকা ছিলেন।[১] তারা দুজনেই স্কটিশ ছিলেন। হোমের বড় ভাই এরিক ১৯৪৩ সালে মারা যায়। হোম এসেক্সের স্বাধীন চিগওয়েল স্কুলে পড়াশোনা করেন।
তিনি ১৯৬৭ সালে হ্যারল্ড পিন্টারের দ্য হোমকামিং মঞ্চনাটকে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ চরিত্র অভিনেতা বিভাগে টনি পুরস্কার অর্জন করেন। দ্য বোফর্স গান (১৯৬৯) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা বিভাগে বাফটা পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি টিভি মিনি ধারাবাহিক জিসাস অব নাজারেথ-এ সেডুসি জেরাহ চরিত্রে এবং মার্চ অর ডাই-এ খল চরিত্র মরোক্কান ভূমিকায় অভিনয় করেন। পরের বছর তিনি বিবিসির টিভি ধারাবাহিক দ্য লস্ট বয়েজ-এ জে. এম. ব্যারি চরিত্রে অভিনয় করেন, এতে তার পুত্র বার্নাবি কিশোর জর্জ লয়েলিন ডেভিস ভূমিকায় কাজ করেন।
হোম স্টিভেন স্পিলবার্গের অ্যালিয়েন (১৯৭৯) চলচ্চিত্রে বিশ্বাসঘাতক অ্যান্ড্রয়েড অ্যাশ চরিত্রে অভিনয় করেন। তার কর্মজীবনে এই কাজের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। ১৯৮১ সালে তিনি বিবিসি প্রযোজিত জে. আর. আর. টলকিনের দ্য লর্ড অব দ্য রিংস-এ ফ্রোডো ব্যাগিন্স চরিত্রের জন্য কণ্ঠ দেন।[৩] একই বছর তিনি চ্যারিয়টস্ অব ফায়ার (১৯৮১) চলচ্চিত্রে ইতালীয়-তুর্কি ট্র্যাক কোচ স্যাম মুসাবিনি চরিত্রে অভিনয় করেন।[৪] এই কাজের জন্য তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসব হতে বিশেষ পুরস্কার অর্জন করে ও তার দ্বিতীয় বাফটা পুরস্কার লাভ করেন এবং শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের মনোনীত হন। ১৯৮০-এর দশকে তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল টাইম ব্যান্ডিটস (১৯৮১), গ্রেস্টোক: দ্য লিজেন্ড অব টারজান, লর্ড অব দ্য এপস (১৯৮৪) এবং টেরি জিলিয়ামের ব্রাজিল (১৯৮৫)। তিনি ডেনিস পটারের লেখা কল্পনাধর্মী ড্রিমচাইল্ড (১৯৮৫)-এ অ্যালিস ইন দ্য ওয়ান্ডারল্যান্ড-এর লেখক লুইস ক্যারল চরিত্রে অভিনয় করেন।
হোম চারবার বিয়ে করেন।[৫] তার প্রথম বিয়ে হয় ১৯৫৫ সাথে লিন ম্যারি শ'য়ের সাথে, যা ১৯৬৫ সালে সমাপ্ত হয়। এই দম্পতির দুই কন্যা জন্মগ্রহণ করে, তারা হলেন জেসিকা হোম ও সারা-জেন হোম। তার দ্বিতীয় বিয়ে হয় ১৯৮২ সালে সোফি বেকারের সাথে, যা ১৯৮৬ সালে সমাপ্ত হয়। দ্বিতীয় বিবাহ থেকে তার এক পুত্র জন্মগ্রহণ করে, তিনি হলেন হ্যারি হোম। ১৯৯১ সালে তিনি তৃতীয়বার বিয়ে করেন, তার তৃতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী পেনেলোপি উইলটন,[৬] যার সাথে তার বৈবাহিক সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে ২০০২ সালে। হোম ও উইলটন একসাথে বিবিসির মিনি ধারাবাহিক দ্য বরোয়ার্স (১৯৯৩)-এ অভিনয় করেছিলেন। তার চতুর্থ স্ত্রী সোফি ডি স্টেম্পেল[৭] ছিলেন চিত্রকর লুসিয়ান ফ্রয়েডের মডেল।[৮] হোম ২০০৩ সালে তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আলোকচিত্রী বি গিলবার্টের সাথে তার ১৫ বছরের সম্পর্কে তাদের দুই সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তারা হলে কন্যা মেলিসা (লিসি) হোম ও পুত্র বার্নবি হোম।[৯]
তিনি মূত্রনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এবং ২০০১ সালে ক্যান্সার থেকে সুস্থ্য হন। তিনি কয়েক বছর পারকিনসন্স রোগেও আক্রান্ত ছিলেন।[১০][১১]
হোম ৮৮ বছর বয়সে ২০২০ সালের ১৯ জুন লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন।[১২]
পুরস্কার | বছর | বিভাগ | মনোনীত কর্ম | ফলাফল |
---|---|---|---|---|
চলচ্চিত্র | ||||
একাডেমি পুরস্কার | ১৯৮২ | শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা | চ্যারিয়টস্ অব ফায়ার | মনোনীত |
কান চলচ্চিত্র উৎসব | ১৯৮১ | শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা পুরস্কার | চ্যারিয়টস্ অব ফায়ার | বিজয়ী |
বাফটা পুরস্কার | ১৯৬৯ | শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা | দ্য বোফর্স গান | বিজয়ী |
১৯৭৯ | শ্রেষ্ঠ অভিনেতা | দ্য লস্ট বয়েজ | মনোনীত | |
১৯৮২ | শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা | চ্যারিয়টস্ অব ফায়ার | বিজয়ী | |
১৯৮৫ | গ্রেস্ট্রোক: দ্য লিজেন্ড অব টারজান, লর্ড অব দি এপস | মনোনীত | ||
১৯৯৬ | শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা | দ্য ম্যাডনেস অব কিং জর্জ | মনোনীত | |
স্যাটার্ন পুরস্কার | ১৯৮৬ | শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা | ড্রিমচাইল্ড | মনোনীত |
টেলিভিশন | ||||
প্রাইমটাইম এমি পুরস্কার | ১৯৯৯ | মিনি ধারাবাহিক বা টিভি চলচ্চিত্রে সেরা অভিনেতা | পারফরম্যান্স | মনোনীত |
২০০২ | মিনি ধারাবাহিক বা টিভি চলচ্চিত্রে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা | দ্য লাস্ট অব ব্লন্ডি বোমশেলস | মনোনীত | |
বাফটা টিভি পুরস্কার | ১৯৮৯ | শ্রেষ্ঠ টিভি অভিনেতা | গেম, সেট অ্যান্ড ম্যাচ | মনোনীত |
মঞ্চ | ||||
ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড থিয়েটার পুরস্কার | ১৯৬৫ | শ্রেষ্ঠ অভিনেতা | ফিফথ হেনরি | বিজয়ী |
১৯৯৩ | মুনলাইট | বিজয়ী | ||
ক্রিটিকস সার্কেল থিয়েটার পুরস্কার | ১৯৯৩ | শ্রেষ্ঠ অভিনেতা | মুনলাইট | বিজয়ী |
টনি পুরস্কার | ১৯৬৭ | শ্রেষ্ঠ চরিত্রাভিনেতা | দ্য হোমকামিং | বিজয়ী |