![]() কেপলার-৯বি-এর তুলনামূলক আকার(বামে), জুপিটারের সাপেক্ষে (ডানে) | |
আবিষ্কার[১][২] | |
---|---|
আবিষ্কারক | কেপলার মিশন দল |
আবিষ্কারের স্থান | কেপলার মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র |
আবিষ্কারের তারিখ | ২৬ আগস্ট ২০১০ |
আবিষ্কারের পদ্ধতি | অতিক্রম |
বিবরণ | |
বিকল্প নামসমূহ | কেওআই-৩৭৭.০১[৩] |
কক্ষপথের বৈশিষ্ট্য | |
অর্ধ-মুখ্য অক্ষ | ০.১৪০ ± ০.০০১ AU (২,০৯,৪০,০০০ ± ১,৫০,০০০ কিমি) |
উৎকেন্দ্রিকতা | ০ |
কক্ষীয় পর্যায়কাল | ১৯.২৪ দি |
নতি | ৮৮.৫৫ |
ভৌত বৈশিষ্ট্যসমূহ | |
গড় ব্যাসার্ধ | ০.৮৪২ ± ০.০৬৯ আরজে |
ভর | ৪৩.৫+২.৭ −৩.৩[৪] M🜨 |
গড় ঘনত্ব | ০.৪±০.১ g cm−3 |
কেপলার-৯বি হল নাসার কেপলার মিশন কর্তৃক সৌরজগতের বাইরে আবিষ্কৃত প্রথম গ্রহগুলোর একটি।[১] এটি বীণা তারামণ্ডলে কেপলার-৯ নক্ষত্রের চারপাশে আবর্তন করে। কেপলার-৯বি হল কেপলার গ্রহ ব্যবস্থার তিনটি গ্রহের মধ্যে সবচেয়ে বড়; যার ভর শনির তুলনায় কম। কেপলার-৯বি এবং কেপলার-৯সি দুটো মিলে কক্ষপথীয় অনুরণন প্রদর্শন করে, যার মাধ্যমে একটি গ্রহ তার মহাকর্ষীয় টানের মাধ্যমে অপরটিকে পরিবর্তন করে এবং একে অপরের কক্ষপথকে স্থির রাখে। ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট গ্রহটির আবিষ্কার ঘোষণা করা হয়।
কেপলার-৯বি হল কেপলার-৯ নক্ষত্রকে আবর্তন করা প্রথম বহির্গ্রহ। কেপলার মিশনের অংশ হিসেবে নক্ষত্রটির নামকরণ করা হয়েছিল। কেপলার মিশন নাসার একটি প্রকল্প যার পরিকল্পনা করা হয়েছে পৃথিবীর মত গ্রহ খুঁজে বের করতে।[৫] কেপলার-৯ এর গ্রহগুলো হচ্ছে কেপলারের অভিযানের প্রথম ৪৩ দিনের মধ্যে পাওয়া ৭০০টি গ্রহের অন্তর্ভুক্ত সদস্য। কেপলার ব্যবস্থা হল পাঁচটি ব্যবস্থার একটি যেগুলোর একের বেশি বহির্গ্রহ আবর্তন করে। ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট কেপলার-৯বি গ্রহের আবিষ্কারের ঘোষণা করা হয়। এটি হল প্রথম গ্রহ যেটির নক্ষত্র ব্যবস্থার একাধিক গ্রহ আবর্তন করে একই নক্ষত্রকে।[২]
গ্রহটি নিশ্চিত করা হয় কেপলার উপগ্রহের আবর্তন পদ্ধতির মাধ্যমে। এ পদ্ধতিতে গ্রহটি সেটার নক্ষত্রের অবয়বের উপর দিয়ে অতিক্রম করার চিত্র পৃথিবীর সাপেক্ষে ধারণ করা হয়। সে নক্ষত্রের ক্ষীণ আলোর পরিমাণ দিয়ে যে সামান্য আলোক পার্থক্য তৈরী হয় তা থেকে গ্রহ এবং কিছু বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা যায়। [২] যেমন, গ্রহের আকার, এর নক্ষত্র থেকে গ্রহের দূরত্ব।
কেপলার-৯বি-এর ভরের প্রাথমিক অনুমান করা হয়েছিল হাওয়াইয়ের মাউনা কেয়াতে অবস্থিত ডব্লিউ. এম. কেক মানমন্দির কর্তৃক। এটা হিসেব করতে গিয়ে, বিজ্ঞানীরা দেখলেন কেপলার-৯বি কেপলার-৯ ব্যবস্থার অন্য দুটি গ্যাসীয় গ্রহের চেয়ে বড়। ভরের দিক দিয়ে আমাদের সৌরজগতের শনি গ্রহের চেয়ে সামান্য ছোট।[২]
কেপলার-৯বি একটি গ্যাসীয় গ্রহ যার ভর পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৪৩ গুণ; এইভাবে, এটি শনি গ্রহের ভরের প্রায় অর্ধেক।[৪] এর ব্যাসার্ধ প্রায় 0.842 আরজে, বা বৃহস্পতির ব্যাসার্ধের প্রায় ৮০%। গ্রহটি প্রতি ১৯.২৪৩ দিনে কেপলার-৯-কে প্রদক্ষিণ করে এবং এটি নক্ষত্র থেকে ০.১৪ AU দূরে অবস্থিত।[৬] তুলনা করার জন্য, সূর্য থেকে বুধ গ্রহের গড় দূরত্ব হল .৩৮৭ AU এবং একটি কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে ৮৭.৯৬৯ দিন সময় নেয়।[৭] কেপলার-৯বি হল এর নক্ষত্রের দ্বিতীয় নিকটতম গ্রহ।
কেপলার-৯বি এবং কেপলার-৯সি-এর মধ্যকার কক্ষপথীয় অনুরণন হচ্ছে বহির্গ্রহে খুঁজে পাওয়া প্রথম ঘটনা। দুটি গ্রহের কক্ষপথের অনুপাত মোটামুটিভাবে ১:২, যারা আবার একে অপরের মহাকর্ষীয় টানের মাধ্যমে কক্ষপথকে নিয়ন্ত্রণ কর। কেপলার-৯বি-এর কক্ষপথ গড়পড়তায় প্রতি কক্ষীয় পর্যায়কালে চার মিনিট বাড়ে। আবার এই প্রক্রিয়াটি বিপরীত হয়ে কমতেও থাকে। সময়ের বড় পরিসরে দেখা যায়, গ্রহদুটির কক্ষপথের আকার মোটামুটি ১:২ অনুপাতে কমে বেড়ে দুলতে থাকে।[৮] কার্নেগি ইন্সটিটিউটের এলিসিয়া ওয়েইনবার্গারের মতে, কেপলার-৯বি গ্যাসীয় দানবটি কেপলার-৯ নক্ষত্র থেকে এখন যে দূরত্বে আছে সম্ভবত আরও অনেক দূরে তা গঠিত হয়েছিল। কক্ষপথের অনুরণনের ঘটনা হয়তো অভ্যন্তরীণ পরিযায়বৃত্তির ঘটনা ব্যাখ্যায় সহায়ক হবে।[৯]
উইকিমিডিয়া কমন্সে কেপলার-৯বি সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।