ডায়ানা নাইঅ্যাড | |
---|---|
Diana Nyad | |
![]() ২০১৬ সালে নাইঅ্যাড | |
জন্ম | ডায়ানা স্নিড ২২ আগস্ট ১৯৪৯ |
শিক্ষা | লেক ফরেস্ট কলেজ (বিএ) নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় |
পেশা | লেখিকা, সাংবাদিক, সাঁতারু |
পরিচিতির কারণ | চ্যাম্পিয়নশিপ সাঁতার, দূর-পাল্লার সাঁতার, সাংবাদিকতা, প্রেরণাদায়ী বক্তৃতা |
ওয়েবসাইট | diananyad |
ডায়ানা নাইঅ্যাড (ইংরেজি: Diana Nyad /ˈnaɪˌæd/; জন্ম: স্নিড, ২২ আগস্ট ১৯৪৯) একজন মার্কিন লেখিকা, সাংবাদিক, প্রেরণাদায়ী বক্তা ও দূর-পাল্লার সাঁতারু।[১] নাইঅ্যাড ১৯৭৫ সালে ম্যানহাটনের চতুর্পাশে (২৮ মাইল বা ৪৫ কিমি) সাঁতার কেটে রেকর্ড গড়লে এবং ১৯৭৯ সালে বাহামাসের বিমিনি থেকে ফ্লোরিডার জুনো সৈকত পর্যন্ত সাঁতার কাটার পর তিনি জাতীয় পর্যায়ে সকলের নজরে আসেন।
২০১৩ সালে তিনি ৬৪ বছর বয়সে পঞ্চম প্রচেষ্টায় কিউবার হাভানা থেকে ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট পর্যন্ত ১১০ মাইল সাঁতার কাটেন, যা ১৯৭৮ সালে ওয়াল্টার পোয়েনিশ ও ১৯৯৭ সালে সুজি মারোনির পর সাঁতার কেটে তৃতীয় ফ্লোরিডা প্রণালী প্রদক্ষিণ। আগের দুইবারের প্রচেষ্টায় হাঙ্গরের খাঁচা ব্যবহৃত হয়েছিল এবং পোয়েনিশের ক্ষেত্রে পাখার ব্যবহার ও তার সহকারী যানে কয়েকবার স্বল্প বিশ্রামের ব্যবস্থা ছিল।[২] নাইঅ্যাড নিরাপত্তামূলক জেলিফিশ স্যুট, হাঙ্গর ডুবুরি, ও বৈদ্যুতিক হাঙ্গর বিতাড়ক যন্ত্র ব্যবহার করেন।[৩][৪] কিউবা থেকে ফ্লোরিডা পর্যন্ত তার প্রদক্ষিণ অসম্পূর্ণ নথি, তার দলের পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন ও তার সাঁতারের সময়ে কোন সংস্থার আইনকানুন না থাকার কারণে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি।[৫] গিনেস বিশ্ব রেকর্ড নাইঅ্যাডের এই অর্জন নাকচ করে।[৬]
তার ২০১৩ সালের সাঁতার ও বনি স্টলের সাথে তার সম্পর্ক ২০২৩ সালের নাইঅ্যাড চলচ্চিত্রে চিত্রায়িত করা হয়েছে, এতে তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যানেট বেনিং ও বনির চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোডি ফস্টার।[৭][৮]
নাইঅ্যাড ১৯৪৯ সালের ২২শে আগস্ট নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতা লুসি উইনস্লো কার্টিস (১৯২৫-২০০৭)[৯] এবং পিতা উইলিয়াম এল. স্নিড জুনিয়র একজন স্টকব্রোকার ছিলেন। ১৮৪৯ থেকে ১৯৩০-এর দশক পর্যন্ত প্রস্তুতকৃত জনপ্রিয় মরফিন-ভিত্তিক শিশুদের দাঁতের ঔষধ মিসেস উইনস্লোস সুদিং সিরাপের উদ্ভাবক শার্লট এন. উইনস্লো ছিলেন তার মায়ের প্র-পিতামহী।[১০]
১৯৫২ সালে লুসি ও উইলিয়ামের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর লুসি অ্যারিস্টটল জেড. নাইঅ্যাডকে বিয়ে করেন, পরবর্তীকালে আবিষ্কৃত হয় তার আসল নাম অ্যারিস নোটারাস, যার একাধিক ছদ্মনাম ছিল।[১১][১২] নোটারাসের বিরুদ্ধে চোরাকারবারিসহ একাধিক আইনি ঝামেলা ছিল। তিনি লুসিকে বিয়ের পর ডায়ানাকে দত্তক নেন।[১৩][১৪][১৫][১৬] তারা সপরিবারে ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলে চলে যান এবং সেখানে ডায়ানা সপ্তম শ্রেণি থেকে সাঁতার শুরু করেন।
১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বেসরকারি পাইন ক্রেস্ট স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখানে অলিম্পিয়ান ও হল অব ফেম কোচ জ্যাক নেলসনের তদারকিতে সাঁতার শিখেন। ডায়ানা বলেন প্রশিক্ষণের শুরুতে যখন তার বয়স ১৪ ছিল, নেলসন তাকে যৌন নিপীড়ন করতেন এবং তিনি হাই স্কুল শেষ করা পর্যন্ত তা চালিয়ে যান।[১০][১৭] তিনি ১০০ গজের চিৎসাতারে তিনবার ফ্লোরিডা স্টেট হাই স্কুল চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেন।[১৮] তিনি ১৯৬৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সাঁতারের স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু ১৯৬৬ সালে তিনি হৃদপিণ্ডে সংক্রমণকারী রোগ এন্ডোকার্ডিটিসের আক্রান্ত হয়ে তিন মাস বিছানায় কাটান।[১৯] তিনি পুনরায় সাঁতার শুরু করলে তার গতি কমে গিয়েছিল।
১৯৬৭ সালে পাইন ক্রেস্ট স্কুল থেকে পাশ করার পর তিনি এমরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, কিন্তু ডর্মিটরির চতুর্থ তলার জানালা থেকে প্যারাশ্যুট পরে লাফ দেওয়ার জন্য তাকে বহিস্কার করা হয়।[২০] এরপর তিনি ইলিনয়ের লেক ফরেস্ট কলেজে ভর্তি হন, সেখানে তিনি সাঁতার চালিয়ে যান এবং দূর-পাল্লার সাঁতারে মনোযোগী হন।[২১]
নাইঅ্যাড চারটি বই লিখেছেন,[২২] সেগুলো হল তার জীবনী ও দূর-পাল্লার সাঁতার নিয়ে আদার শোরস (১৯৭৮), বেসিক ট্রেইনিং ফর উইমেন (১৯৮১), এনএফএল ওয়াইড রিসিভার কেশন জনসন সম্পর্কে বস অব মি: দ্য কেশন জনসন স্টোরি (১৯৯৯), এবং ফাইন্ড এ ওয়ে (২০১৫)। তিনি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, এনপিআরের "অল থিংস কনসিডারড", নিউজউইক ও অন্যান্য প্রকাশনার জন্য লিখেছেন। নাইঅ্যাড ও সাবেক পেশাদার রেকেটবল খেলোয়াড় বনি স্টল ব্রাভাবডি নামে একটি কোম্পানি চালু করেন, যার উদ্দেশ্য হল চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের অনলাইনে ব্যায়ামের পরামর্শ দেওয়া।[২৩]
নাইঅ্যাড পূর্বে বেতার অনুষ্ঠান "দ্য স্যাভি ট্রাভেলার" সঞ্চালনা করতেন।[২৪] ২০০৬ থেকে তিনি দীর্ঘদিন ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর বিকালের সংবাদ অনুষ্ঠান অল থিংস কনসিডারডের সাপ্তাহিক (প্রতি বৃহস্পতিবার) অবদানকারী ছিলেন এবং আমেরিকান পাবলিক মিডিয়ার বেতার অনুষ্ঠান মার্কেটপ্লেস বিজনেস নিউজের "বিজনেস অব স্পোর্ট" ভাষ্যকার ছিলেন। এছাড়া তিনি সিবিএস নিউজ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান সানডে মর্নিং-এর নিয়মিত অবদানকারী ছিলেন।
নাইঅ্যাড ১৯৭৯ মহিলা বিশ্ব ওপেন স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেন, সেখানে তিনি প্রথম রাউন্ডে সুয়েডীয় খেলোয়াড় কাতারিনা দু-বোয়ের কাছে পরাজিত হন। একই বছর তিনি বিশ্ব দলগত চ্যাম্পিয়নশিপে মার্কিন জাতীয় দলে খেলেন। তারা কোন ম্যাচ না জয় লাভ করে ষষ্ঠ স্থান নিয়ে আসর শেষ করেন।[২৫][২৬]