চিত্র:The History of Doing cover.PNG ৮ম সংস্করণের প্রচ্ছদ | |
লেখক | রাধা কুমার, ছবির গবেষণা কালি ফর উইমেন |
---|---|
দেশ | ভারত |
ভাষা | ইংরেজি |
বিষয় | নারীর অধিকার |
ধরন | প্রকৃত তথ্যভিত্তিক সাহিত্য |
প্রকাশিত | ১৯৯৩ |
আইএসবিএন | ৯৭৮০৮৬০৯১৪৫৫৬ |
"দ্য হিস্ট্রি অফ ডুয়িং: অ্যান ইলাস্ট্রেটেড অ্যাকাউন্ট অফ মুভমেন্টস ফর উইমেন'স রাইটস অ্যাণ্ড ফেমিনিজম ইন ইণ্ডিয়া ১৮০০-১৯৯০" হল রাধা কুমারের লেখা একটি বই।[১] ১৯৯৩ সালে নরওয়ের একটি সংগঠনের ১.৪ লক্ষ টাকা অনুদানের পর কালি ফর উইমেন কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে এটি জুবান (কালির ছাপ মারা) এবং ভার্সো কর্তৃক প্রকাশিত হয়। এই চিত্রিত বইটি "উনিশ শতকের শুরু থেকে বর্তমান দিন পর্যন্ত ভারতে নারী আন্দোলনের একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক ইতিহাস", ভূমিকার প্রথম লাইনটি সংক্ষিপ্তভাবে এটি প্রকাশ করে।[২][৩]
বইটি ১২টি অধ্যায় এবং আরও চারটি বিভাগে বিভক্ত,— বিভাগগুলি হল উৎসর্গ, স্বীকৃতি, উপসংহার এবং সূচী।বইটির মূল সংস্করণটি ২০৩ পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত।[৪] বইটিকে মূলত দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা যেতে পারে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময়কালে ভারতে নারী আন্দোলন এবং তারপর ভারত স্বাধীনতা লাভের পরের সময়কাল।[৫]
সোশ্যালিস্ট রিভিউ -এর একটি বই-পর্যালোচনা অনুসারে, "বইটি আরও আকর্ষণীয় কারণ বইটি লিফলেটের কপি, পোস্টারের পুনর্মুদ্রণ, কর্মকাণ্ডে জড়িত কিছু মহিলাদের জীবনী এবং কর্মকাণ্ডের প্রচুর ছবি দিয়ে সজ্জিত।"[৫] প্রতিবাদী মহিলাদের ছবিগুলি নিজেই এক একটি গল্প বলে এবং বইটি "গণ-কর্মকাণ্ডে মুক্তির শক্তির অর্থ কি" তার একটি ঝলক।[৫] তুলসী প্যাটেল[ক] সমাজতাত্ত্বিক বুলেটিনে[খ]তাঁর পর্যালোচনায় বইটির দৃশ্যমান নৃবিজ্ঞান সম্পর্কে একই কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি আরও যোগ করেছেন যে বইটি ছবি, নথি, বিতর্ক এবং বাক্সের ভিতরে রাখা অন্যান্য বিষয় দ্বারা সমৃদ্ধ।
ভারতের নারী আন্দোলনে সমস্যা এবং আন্দোলন যে ধরণের সমস্যাগুলি নিয়ে হয়েছে, যেমন সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক সহিংসতা, পুনর্বিবাহ, কন্যাশিক্ষা, ধর্ষণ, যৌতুক, রাজনীতিতে নারী, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ধ্বংস এবং সেইসাথে এর দিকনির্দেশনা ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি রাধা কুমার উত্থাপন করেছেন।[৩][৮] ভারতের নারী আন্দোলন "পশ্চিমী বিশ্ব থেকে অপ্রয়োজনীয় আমদানি"[৪][৯] এই দাবির পাল্টা যুক্তি ও এদের পার্থক্য তিনি তুলে ধরেন এবং ভারতীয় নারীদের উপর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও বর্ণ ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন।[৪][৫] জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তুলসী প্যাটেল লক্ষ্য করেছেন যে বইটি কিভাবে "বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা বিষয়গুলির আলোকে প্রচারণা, সংগঠন এবং ব্যক্তিত্ব" জরিপ করেছে।[৬]
রাধা কুমার উল্লেখ করেছেন যে, উনিশ শতকে ভারত কিভাবে সামাজিক সংস্কারের প্রভাবে প্লাবিত হয়েছিল এবং সেখানে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ঘটছিল। সকল ক্ষেত্রে নারীর অবস্থান নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল; পুরুষরাও সামনের সারিতে ছিলেন। বাল্যবিবাহ, বিধবাদের পুনর্বিবাহ নিষিদ্ধকরণ, সতীদাহ প্রথা, কন্যাশিক্ষা - এই সকল বিষয়ের উপর সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন ছিল; এবং এগুলোর সমাধান করা হয়েছিল।[৯] উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলি বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যেমন রুক্মা বাঈ এবং বাল্যবধূ হিসেবে তাঁর বিবাহের আইনি মামলা; যেখানে তিনি ১৮৮৪ সালে আপিল আদালতের রায় মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে রাজি ছিলেন এবং ইংল্যাণ্ডে গিয়ে ডাক্তার হয়ে এসেছিলেন; ভারতে ফিরে এসে তিনি চিকিৎসা অনুশীলন চালিয়ে যান।[৯] ব্রিটিশ শাসনকালে আরও একটি ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, তা হল ১৯৪০-এর দশকে বর্গাচাষিদের আন্দোলন, যেখানে হাজার হাজার নারী প্রতিবাদে সক্রিয় ছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে কিভাবে কিছু মহিলা গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।[৫]
তিনি উল্লেখ করেন যে স্বাধীনতার পরে কিভাবে পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। মহিলারা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁদের চাহিদা এবং আকাঙ্ক্ষাকে আইন প্রণেতারা আমল দিচ্ছেন না। ১৯৭০-এর দশকে গ্রাম পর্যায়ে মদ বিক্রির বিরুদ্ধে এবং সতীদাহ, যৌতুকপ্রথা ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রচারণার মতো বিভিন্ন নারী আন্দোলন দেখা যায়।[৯] রাধা কুমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি একটি গোঁড়া হিন্দু প্রতিবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেখানে অনেক মহিলা সতীদাহের পক্ষে ছিলেন।[৫] উপাসনা মহন্ত ইপিডব্লিউ-তে লিখেছেন যে রাধা কুমারের বই লিপিবদ্ধ করেছে "সাধারণ মহিলারা কিভাবে স্বামী, পরিবার, সম্প্রদায় ইত্যাদির সঙ্গে মধ্যস্থতা করে "ছাড়" নিয়ে ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতিগুলিকে তাদের সুবিধার জন্য পুনর্ব্যবহার করে, যেগুলি অন্যথায় তাদের পাওয়ার উপায় ছিল না।"[১০]
প্রকাশের পর থেকে বইটি ব্যাপকভাবে পঠিত হয়েছে এবং জিজিএস ইন্দ্রপ্রস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পিজি ডিপ্লোমায় এবং এর পাশাপাশি মহিলা অধ্যয়ন কেন্দ্রের পিজি ডিপ্লোমার পাঠ্যক্রমে নারীর ক্ষমতায়ন নারী শিক্ষার অংশ হয়ে উঠেছে।