মানসা মূসা (আনুমানিক ১২৮০ থেকে আনুমানিক ১৩৩৭ পর্যন্ত) অথবা মালির প্রথম মূসা ছিলেন ১৪শতকের মালি সম্রাজ্যের একজন মানসা। মানসা শব্দের অর্থ সুলতান, বিজেতা,[২] বা "সম্রাট",[৩][৪][৫][৬][৭] মানসা ছিলেন মালি সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সান্দিয়াতা কেইতা'র ভাগ্নে। ১৩০৭ সালে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি প্রথম আফ্রিকান শাসক যিনি ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন।[৮] মানসা মূসার কাছে এত পরিমাণ স্বর্ণ ছিল যে, তিনি তার রাজ্য থেকে ১০ কিলোমিটার এর একটি পথ স্বর্ণ দিয়ে ঢেকে দিতে পারতেন।
মুসার সিংহাসনে আরোহণের সময়, মালির বিশাল অংশে ঘানা সাম্রাজ্যের প্রাক্তন অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল, যা মালি জয় করেছিল। মালি সাম্রাজ্যের মধ্যে ছিল এমন জমি যা এখন গিনি, সেনেগাল, মৌরিতানিয়া, গাম্বিয়া এবং আধুনিক মালি রাজ্যের অংশ। মুসা তার শাসনামলে "মেলের আমির", "ওয়াঙ্গারার খনির প্রভু", এবং "ঘানাতার বিজয়ী" এর মতো অনেক উপাধি ধারণ করেছিলেন।[৯]
মুসা তাদের আশেপাশের জেলাসহ ২৪টি শহর জয় করে।[১০] মুসার শাসনামলে, মালি বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ উৎপাদক হতে পারে, এবং মুসা কে অন্যতম ধনী ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।[১১] তবে টাইম ম্যাগাজিনের মতো আধুনিক ভাষ্যকাররা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে মুসার সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণের কোন সঠিক উপায় নেই।[১২]
মুসাকে সাধারণত পশ্চিমা পাণ্ডুলিপি ও সাহিত্যে "মানসা মুসা" বলা হয়। তার নাম "কানকৌ মুসা", "কানকান মুসা", এবং "কাঙ্কু মুসা" হিসাবেও প্রদর্শিত হয়। মুসার জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য নামের মধ্যে রয়েছে "মালি-কয় কানকান মুসা", "গঙ্গা মুসা", এবং "মালির সিংহ"।[১৩][১৪] তিনি বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাহিত্য ও স্থাপত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার শাসনামলে সাম্রাজ্য সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছিল।[১৫]
মূসা অধিক পরিচিত ছিলেন তার কথিত হজ্জপালনের জন্য ( ১৩২৪ থেকে ১৩২৫ )। প্রচলিত আছে, তার হজ্জবহরের কাফেলায় রসদপূর্ণ থলে বহনকারী ৬০,০০০ লোক ছিল, সাথে ছিল ৫০০ গোলাম যারা প্রত্যেকে একটি করে সোনার দন্ড বহন করছিল এবং ৮০ থেকে ১০০টি উট ছিল, যেগুলো প্রত্যেকটি প্রায় ১৪০ কেজি সোনার গুঁড়ো বহন করছিলো। তার এই যাত্রাপথে তিনি প্রায় কয়েকশত কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেছিলেন। কায়রোতে তিনি এত বেশি স্বর্ণ বিতরণ করেছিলেন যে, বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানে স্বর্ণের দাম তুলনামুলকভাবে অনেক কম ছিল।
মানসা মূসা ইসলাম প্রচারেও সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি একজন অনুগত মুসলিম ছিলেন এবং কুর'আনের শিক্ষার উপর ভিত্তি করে অনেকগুলো বিদ্যালয় নির্মাণ করেন। তিনি উত্তর আফ্রিকার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী প্রেরণ করতেন।[১৬]
মানসা মূসা তার রাজত্বকালে রাজ্যব্যবস্থা ও রাজকার্যাবলি নতুনভাবে সাজাতে সাহায্য করেছিলেন। তার রাজত্বকালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক স্থিতিশীল ছিলো।
মানসা মূসার হজ্জপালনের পর, ইউরোপীয় মানচিত্র-অঙ্কনকারীরা তাদের মানচিত্রগুলোতে মানসা মূসার ছবি আঁকা শুরু করে। মালি সাম্রাজ্যের পতনের পর মানসা মূসার খ্যাতিও কমে যেতে থাকে। এরপর থেকে তাকে আর কখনোই মানচিত্রগুলোতে সম্মানিত রাজা হিসেবে আঁকা হয় নি, বরঞ্চ আরও অসভ্যভাবে দেখানো হয়েছে। তাকে ইউরোপীয় রাজপরিবারের ব্যাঙ্গাত্মক নমুনারুপে আঁকা হত, যা ছিল একজন রাজমুকুট পরিহিত জংলী ব্যক্তি।
- ↑ Earthen magic and the Empire of Mali = Magia en tierra y el imperio de Mali। FISA। ২০০৫। আইএসবিএন 9788493112417।
- ↑ Lapidus, Ira M. A History of Islamic Societies. 3rd edn. New York, NY: Cambridge University Press, 2014, p. 455.
- ↑ Knoblock, Kathleen, "An Interview with Ibn Battuta", Primary Source Fluency Activities: World Cultures (In Sub-Saharan Africa), Shell Education, 2007. আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪২৫৮-০১০২-১.
- ↑ Travels in Asia and Africa, 1325-1354, by Ibn Battuta, London 2005, p. 324, আইএসবিএন ০-৪১৫-৩৪৪৭৩-৫.
- ↑ Jansen, Jan (১৯৯৮)। "Hot Issues: The 1997 Kamabolon Ceremony in Kangaba (Mali)"। The International Journal of African Historical Studies। 31 (2): 253–278। জেস্টোর 221083। (নিবন্ধন করা প্রয়োজন (সাহায্য))। On page 256, Jan Jansen writes: "Mansa is generally translated as 'king,' 'ruler' or 'ancestor.' The Griaulians, however, often translate mansa as 'God,' 'the divine principle' or 'priest king,' although they never argue the choice for this translation, which has an enormous impact on their analysis of the Kamabolon ceremony."
- ↑ Macbrair, Robert Maxwell, A Grammar of the Mandingo Language: With Vocabularies, London, 1873, p. 5.
- ↑ Berkin, Carol, Christopher Miller, Robert Cherny, James Gormly & Douglas Egerton, Making America – A History of the United States, 5th edition, Boston, 2011, p. 13. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬১৮-৪৭১৩৯-৩.
- ↑ Goodwin 1957, পৃ. 109
- ↑ Goodwin 1957, পৃ. 109.
- ↑ Conrad, David C. (২০০৯)। Empires of Medieval West Africa: Ghana, Mali, and Songhay (ইংরেজি ভাষায়)। Infobase Publishing। পৃষ্ঠা ৩৬। আইএসবিএন 978-1-4381-0319-8।
- ↑ Morgan, Thad। "This 14th-Century African Emperor Remains the Richest Person in History"। HISTORY (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৫-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-০৬।
- ↑ Davidson, Jacob (জুলাই ৩০, ২০১৫)। "The 10 Richest People of All Time"। Time (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0040-781X। আগস্ট ২৪, ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-০৬।
- ↑ Hunwick 1999, পৃ. 9.
- ↑ Bell 1972, পৃ. 224–225.
- ↑ Zamosky, Lisa (২০০৭-০১-০৫)। Mansa Musa: Leader of Mali (ইংরেজি ভাষায়)। Teacher Created Materials। আইএসবিএন 978-1-4333-9059-3।
- ↑ Goodwin 1957, পৃ. 110
- Bell, Nawal Morcos (১৯৭২), "The age of Mansa Musa of Mali: Problems in succession and chronology", International Journal of African Historical Studies, 5 (2): 221–234, জেস্টোর 217515, ডিওআই:10.2307/217515 .
- De Villiers, Marq, and Sheila Hirtle. Timbuktu: Sahara’s Fabled City of Gold. Walker and Company: New York. 2007.
- Goodwin, A. J .H. (১৯৫৭), "The Medieval Empire of Ghana", South African Archaeological Bulletin, 12 (47): 108–112, জেস্টোর 3886971, ডিওআই:10.2307/3886971 .
- Hunwick, John O. (১৯৯৯), Timbuktu and the Songhay Empire: Al-Sadi's Tarikh al-Sudan down to 1613 and other contemporary documents, Leiden: Brill, আইএসবিএন 90-04-11207-3 .
- Levtzion, Nehemia (১৯৬৩), "The thirteenth- and fourteenth-century kings of Mali", Journal of African History, 4 (3): 341–353, জেস্টোর 180027, ডিওআই:10.1017/s002185370000428x .
- Levtzion, Nehemia (১৯৭৩), Ancient Ghana and Mali, London: Methuen, আইএসবিএন 0-8419-0431-6 .
- Levtzion, Nehemia; John F. P. Hopkins, সম্পাদকগণ (২০০০), Corpus of Early Arabic Sources for West Africa, New York, NY: Marcus Weiner Press, আইএসবিএন 1-55876-241-8 . First published in 1981.
উইকিমিডিয়া কমন্সে
মানসা মূসা সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।
আফ্রিকান লিজেন্ড পৃষ্ঠা
|
---|
সাধারণ | |
---|
জাতীয় গ্রন্থাগার | |
---|
অন্যান্য | |
---|