পেশাগত নিরাপত্তার আলোচনায় অল্পের জন্য রক্ষা বা একচুলের জন্য বেঁচে যাওয়া বলতে এমন কোনও অপরিকল্পিত অঘটনকে বোঝায়, যেটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনও শারীরিক ক্ষতি বা প্রাণহানি, কিংবা পরিবেশগত বা যন্ত্রপাতির ক্ষতির কারণ হতে পারত বা স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারত, কিন্তু সৌভাগ্যবশত বা সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের কারণে কিংবা ত্রুটি সংশোধনের কারণে তা ঘটেনি।[১][২] একে ইংরেজিতে নিয়ার মিস (near miss) বলে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয়ের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী অল্পের জন্য রক্ষা হল এমন একটি অঘটন, যাতে কোনও সম্পদ বা শারীরিক ক্ষতি না হলেও সময় বা অবস্থানের সামান্য পরিবর্তন হলে সহজেই তা ঘটতে পারত।[১]
অল্পের জন্য রক্ষাকে প্রায়-দুর্ঘটনা (near accident নিয়ার অ্যাক্সিডেন্ট), দুর্ঘটনার পূর্বসূরী (accident precursors), ক্ষতিবিহীন অঘটন (injury-free events), এবং চলমান বস্তুর ক্ষেত্রে প্রায়-সংঘর্ষ (অর্থাৎ সংঘর্ষ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা) (near collision নিয়ার কোলিশন) হিসেবে ডাকা হতে পারের[৩] অল্পের জন্য রক্ষা প্রায়শই কোনও মানব ত্রুটির কারণে ঘটে থাকে এবং পারিপার্শ্বিক কোনও কারণে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রতিরোধ হয়।[৪] এছাড়া কোনও সংস্থা বা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়াতে ত্রুটির কারণেও এরূপ হতে পারে।
যুদ্ধক্ষেত্রে কোনও নিক্ষিপ্ত অস্ত্র বা বোমা অল্পের জন্য লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হলে তাকেও অল্পের জন্য রক্ষা বলে।
সম্ভাব্য বিপদ (Hazard) এবং অল্পের জন্য রক্ষার (near miss) মধ্যে পার্থক্য হল সম্ভাব্য বিপদ একটি তাত্ত্বিক ধারণা। অন্যদিকে অল্পের জন্য রক্ষা একটি বাস্তব ঘটনা যা সৌভাগ্যবশত ক্ষতির কারণ না হলেও অন্য কোনও পরিস্থিতিতে ক্ষতির কারণ হতেও পারত। যেমন একটি ফুটন্ত গরম কফির কাপের মুখ খোলা থাকাটা একটি সম্ভাব্য ক্ষতির কারণ, অন্যদিকে মুখখোলা কাপটি থেকে কফি উপচে পড়ে যাওয়ার পরেও সৌভাগ্যবশত দগ্ধ হওয়া থেকে রেহাই পাওয়া হল অল্পের জন্য রক্ষা।
উন্নত পেশাদার কর্মক্ষেত্রগুলিতে অল্পের জন্য রক্ষার ঘটনাগুলির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকে। কর্মচারী ও শ্রমিকেরা এই প্রতিবেদন জমা দিলে তত্ত্বাবধায়ক ও নিরাপত্তা কর্মচারীরা এই ঘটনাগুলি তদন্ত করে দেখে, সেটির মূল কারণ চিহ্নিত করে এবং ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য ত্রুটিসংশোধক কর্মপদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করে।
মার্কিন শিল্প নিরাপত্তা অগ্রদূত হার্বার্ট উইলিয়াম হাইনরিখ ১৯৩১ সালে একটি দুর্ঘটনা ত্রিভুজ উপস্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন পেশাগত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ফ্র্যাংক ই বার্ড ১৭ লক্ষ দুর্ঘটনার প্রতিবেদন গবেষণা করে ত্রিভুজটির উন্নয়ন সাধন করে দেখান যে প্রতি ৬০০টি অল্পের জন্য রক্ষার ঘটনার হজন্য একটি গুরুতর দুর্ঘটনা (মৃত্যু), ১০টি গৌণ দৈহিক ক্ষতির দুর্ঘটনা (প্রাথমিক চিকিৎসায় সারার যোগ্য), এবং ৩০টি যন্ত্রপাতির ক্ষতির দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।