অ্যামারান্থাস পামেরি | |
---|---|
![]() | |
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস ![]() | |
জগৎ/রাজ্য: | প্লান্টি (Plante) |
গোষ্ঠী: | ট্র্যাকিওফাইট (Tracheophytes) |
ক্লেড: | সপুষ্পক উদ্ভিদ (অ্যাঞ্জিওস্পার্মস) |
ক্লেড: | ইউডিকটস |
বর্গ: | ক্যারিওফাইলেলস (Caryophyllales) |
পরিবার: | অ্যামারান্থাসি (Amaranthaceae) |
গণ: | Amaranthus S.Wats. |
প্রজাতি: | A. palmeri |
দ্বিপদী নাম | |
Amaranthus palmeri S.Wats. |
অ্যামারান্থাস পামেরি (Amaranthus palmeri) অ্যামারান্থ গণের খাবারযোগ্য সপুষ্পক উদ্ভিদের একটি প্রজাতি। ইংরেজিতে এর বেশ কয়েকটি প্রচলিত নাম রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কেয়ারলেসউইড (carelessweed), ডায়োসিয়াস অ্যামারান্থ (dioecious amaranth), পামার্স অ্যামারান্থ (Palmer's amaranth), পামার অ্যামারান্থ এবং পামার্স পিগউইড (Palmer's pigweed)।[১][২]
এটি উত্তর আমেরিকার প্রায় অর্ধেক দক্ষিণাঞ্চলের স্থানীয় একটি প্রজাতি। পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এর দেখা মেলে, তবে তা স্থানীয় নয় বরং সম্ভবত অভিযোজিত। এটি ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলেও এটি দেখা যায়। উদ্ভিদটি দ্রুত ক্রমবর্ধমান এবং অন্যান্য উদ্ভিদের সঙ্গে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক।
অন্যান্য অ্যামারান্থের মতো পামার অ্যামারান্থের পাতা, কাণ্ড এবং বীজ খাবারযোগ্য এবং অত্যন্ত পুষ্টিকর।[১][৩] পামার অ্যামারান্থ একসময় উত্তর আমেরিকা জুড়ে নেটিভ আমেরিকানরা ব্যাপকভাবে চাষ করত এবং খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করত। প্রচুর বীজের জন্য এবং রান্নাকৃত বা শুকনো সবুজ সবজি[৩] হিসাবে এর বেশ চাহিদা ছিল। এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য অ্যামারান্থাস প্রজাতিগুলি মেক্সিকো, দক্ষিণ আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান, আফ্রিকা, ভারত এবং চীনে হাজার হাজার বছর ধরে সবুজ শাক এবং বীজের জন্য ফসল হিসাবে চাষ করা হয়েছে।
পাতায় নাইট্রেট থাকার কারণে উদ্ভিদটি গবাদি পশুর জন্য বিষাক্ত হতে পারে।[৪] পামার অ্যামারান্থের মধ্যে মাটি থেকে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন শোষণ করার প্রবণতা রয়েছে। যদি অতিরিক্ত উর্বর মাটিতে জন্মায় তবে এতে মানুষের জন্যও ক্ষতিকর মাত্রার নাইট্রেট থাকতে পারে। পালং শাক এবং অন্যান্য অনেক শাকের মতো, অ্যামারান্থের পাতায় অক্সালিক অ্যাসিড থাকে, যা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিডনির সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।[৫]
গবাদি পশুর জন্য এর বিষাক্ততা, এবং খাদ্য হিসাবে অমরান্থব্যবহারের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুর্লভ পরিচিতির কারণে, পামার অমরান্থ খুব কমই 2020 সালের হিসাবে খাওয়া হয়, তার সর্বজনীনতা এবং খরার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সত্ত্বেও। অন্যান্য অঞ্চলের শস্য ও পাতা অমরন্থের মতো, সাম্প্রতিক কৃষি প্রজনন দ্বারা এটি চাষ বা আরও উন্নত হয়নি। এর ফলে, আমেরিকান কৃষকদের কাছে পামার অমরান্থের প্রাথমিক অর্থনৈতিক গুরুত্ব একটি ক্ষতিকারক আগাছা এবং আরও বিপণনযোগ্য ফসলের প্রতিযোগী হিসাবে হয়েছে, বরং তার নিজস্ব ভাবে ফসল হিসাবে।
পামার অ্যামারান্থকে দক্ষিণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তুলা এবং সয়াবিন ফসল উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে হুমকি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ২০০১ সালে ইলিনয়ের দক্ষিণ কোয়ার্টারে এটি পাওয়া যায় এবং ২০০৬ সালের মধ্যে উত্তর ইলিনয়েও ছড়িয়ে পড়ে।[৬]
অনেক জায়গায়, উদ্ভিদটি আগাছানাশক-প্রতিরোধী হিসেবে বিকশিত হয়েছে। অন্তত ২০০৬ সাল থেকে গ্লাইফোসেট নামে একটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত আগাছানাশককে এটি প্রতিরোধ করেছে।[৭][৮][৯] গ্লাইফোসেট-প্রতিরোধী আগাছা কেবল তুলা ক্ষেতেই প্রাধান্য পায় না, অন্যান্য ফসল এবং উৎপাদনক্ষেত্রেও বিস্তৃত প্রভাব রয়েছে।[১০]
২০১৪ সালে, টেক্সাস কৃষি বিভাগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার কাছে পামার অ্যামারান্থের হুমকির মুখে থাকা ৩ মিলিয়ন একর (১.২ মিলিয়ন হেক্টর) তুলাক্ষতের উপর সীমাবদ্ধ রাসায়নিক প্রোপাজিন ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল। (পানীয় জলের অপ্রীতিকর ঝুঁকির কারণে অনুরোধটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।)[১১]
২০১৯ সালে, ক্যান্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ক্যান্সাসে ২,৪-ডি এবং ডিকাম্বার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সাথে পামার অ্যামারান্থকেও নথিভুক্ত করেছিলেন।[১২][১৩][১৪]
পামার অ্যামারান্থ বৃদ্ধির হার এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতার দিক দিয়ে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক আগাছা প্রজাতি হতে পারে।[১৫] বিশেষ করে পামার অ্যামারান্থ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। এটি তুলাকে ছাড়িয়ে যেতে অনেক বেশি পারদর্শী। কৃষকরা ১১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপ-সূচকের মধ্যে ৮৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এর উপরে বর্ধিত তাপমাত্রা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত আর্দ্রতা সরবরাহ করতে সক্ষম হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে, অনেক আগাছানাশক সময়ের সাথে সাথে অকার্যকর যায় এবং পামার অ্যামারান্থ বাড়তে থাকে।
এটি তিন দিনে প্রায় ২ থেকে ৫ ইঞ্চি (৫১ থেকে ১২৭ মিলিমিটার) পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।[১০] মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, ৫ থেকে ৮ ইঞ্চি (১৩০ থেকে ২০০ মিলিমিটার) তুলা গাছের তুলনায় প্রায় ১২ থেকে ১৮ ইঞ্চি (৩০০ থেকে ৪৬০ মিলিমিটার) পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।[১৬]
এর পরাগরেণু বাতাসের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে।[১০] পুরুষ উদ্ভিদ পরাগরেণু উৎপন্ন করে এবং স্ত্রী উদ্ভিদ বীজ উৎপন্ন করে। বাতাস পুরুষ উদ্ভিদ থেকে স্ত্রী উদ্ভিদে পরাগরেণু বহন করে। উপরন্তু এর বীজ কৃষকদের মাধ্যমে প্রথাগত উপায়েও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।[১৫]
২০১৪ সালে, নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির "এনডি উইড কন্ট্রোল গাইড" অ্যামারান্থাস পামেরিকে "উইড-অফ-দ্য-ইয়ার" বা "বর্ষসেরা আগাছা" হিসেবে নির্বাচিত করে, যাতে এর "সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক প্রভাব" সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়।[১৭]:৫ টানা দ্বিতীয়বারের মত ২০১৫ সালে এটিকে "উত্তর ডাকোটায় পামার অ্যামারান্থের পত্তন রোধে সক্রিয় অভিগমন" হিসাবে পুনরায় "বর্ষসেরা আগাছা" হিসাবে নির্বাচিত করা হয়।[১৮] এটি বহিঃস্থানীয় আগাছা হিসাবে বিবেচিত হয় যা রুডেরাল এবং সেজেটাল (ভুট্টা ক্ষেতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত) উভয় উদ্ভিদ সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে।[১৯]