মুসলমান পণ্ডিত আবু মোহাম্মদ আল-হাসান আল-হামদানি | |
---|---|
উপাধি | হামদানি |
জন্ম | ৮৯৩ |
মৃত্যু | ৯৪৫ |
যুগ | ইসলামের স্বর্ণযুগ |
মূল আগ্রহ | ইতিহাস, ভূগোল, ব্যাকরণ, রসায়ন ও জ্যোতির্বিদ্যা |
লক্ষণীয় কাজ | আরব উপদ্বীপের ভূগোল (সিফাৎ যাজিরাত উল-আরব) ইকলিল (মুকুট) |
আবু মোহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব আল-হামদানি (২৭৯/২৮০-৩৩৩/৩৩৪ হিজরি/৮৯৩-৯৪৫খ্রিঃ; আরবি: أبو محمد الحسن بن أحمد بن يعقوب الهمداني) ছিলেন পশ্চিম আমরান/ইয়েমেন এর বানু হামাদান গোত্রের একাধারে একজন আরব[১] মুসলিম ভূগোলবিদ, কবি, রসায়নবিদ, ব্যাকরণবিৎ, ঐতিহাসিক, এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি ছিলেন আব্বাসিয় খেলাফতের শেষ সময়কার ইসলামিক সংস্কৃতির একজন শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি।
তার যথেষ্ট পরিমাণ বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড থাকা সত্ত্বেও আল-হামদানির জীবনকাহিনী সম্বন্ধে খুব কমই জানা যায়। তিনি ব্যাকরণবিদ হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন বেশি, তাছাড়া তিনি অনেক কবিতা লিখে গেছেন, জ্যোতির্বিদ্যার ছক প্রণয়ন করেছেন, এবং তার জীবনের বেশীরভাগ সময়ই আরবের প্রাচীন ইতিহাস এবং ভূগোল সম্পর্কে জানতে অতিবাহিত করেছেন।
তার জন্মের পূর্বে তার পরিবার আল-মারশি (المراشي) তে বসবাস করত। অতঃপর তারা সানা'য় (صنعاء) চলে আসেন, যেখানে তিনি ৮৯৩ খ্রিঃ জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন পরিব্রাজক ছিলেন এবং তিনি কুফা, বাগদাদ, বসরা, ওমান এবং মিশর ভ্রমণ করেন। সাত বছর বয়সের সময়, তিনি নিজে থেকেই ভ্রমণের কথা বলতেন। সাদাহ (صعدة) এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পর, তিনি মক্কা ত্যাগ করেন, যেখানে তিনি ছয় বছরের বেশি অবস্থান করেছেন এবং শিক্ষাদীক্ষা গ্রহণ করেছেন। সেখানে তিনি খাওলান (خولان) সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে, তিনি সানায় ফিরে আসেন এবং হিমিয়ার (حمْير) সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করেন, কিন্তু তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তাকে দুই বছর কারারুদ্ধ করে রাখা হয়। কারামুক্তির পর, তার গোত্রের প্রতিরক্ষার জন্য তিনি রাইদা (ريدة) তে যান, সেখানেই তিনি তার গ্রন্থের বেশীরভাগ সংকলন করেন এবং ৯৪৫ সালে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সেখানেই বাস করেন।
তার সম্পাদিত আরব উপদ্বীপের ভূগোল (সিফাৎ যাজিরাত উল-আরব) হচ্ছে এই বিষয়ের উপর এখন পর্যন্ত সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। আলয়েস স্প্রেঞ্জারের দ্বারা তার গবেষণাগ্রন্থ Post- und Reiserouten des Orients (লাইপ্ৎসিশ, ১৮৬৪) এবং অন্য একটি গ্রন্থে Alte Geographie Arabiens (বের্ন, ১৮৭৫), নামে পাণ্ডুলিপি আকারে ব্যবহারের পর, ডি.এইছ. মুলার (লাইডেন, ১৮৮৪; cf. Sprenger's criticism in Zeitschrift der deutschen morgenländischen Gesellschaft, খণ্ড- ৪৫, পৃ;৩৬১–৩৯৪) এই শিরোনামে এটিকে সম্পাদনা করেন।
প্রাচীন আরব নিয়ে বিভিন্ন প্রকাশনায় ই. গ্ল্যাজার তার কাজ নিয়ে অনেক লেখালেখিও করেছেন। আল-হামদানির অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কর্মের মধ্যে রয়েছে ইকলিল (মুকুট), যা দশ খণ্ডে হিমিয়ারিয়দের বংশবৃত্তান্ত সম্পর্কে এবং তাদের রাজাদের যুদ্ধসমূহ নিয়ে লিখা। এগুলোর মধ্য থেকে, ৮ অংশ, দক্ষিণ আরবের নগরদুর্গ এবং প্রাসাদসমূহের উপর, মুলার কর্তৃক Die Burgen und Schlösser Sudarabiens (ভিয়েনা, ১৮৮১) তে সম্পাদনা করা হয়েছে।
আল-হামদানির বর্ণীত অন্যান্য কাজ গুস্তাভ লেবারেশ্ট ফ্লুগেলের Die grammatischen Schulen der Araber (লাইপ্ৎসিশ, ১৮৬২), পৃ;২২০–২২১; এ দেখা যায়।