আরশাদ নাদিম (জন্ম ২য় জানুয়ারি, ১৯৯৭) একজন পাকিস্তানি জ্যাভলিন থ্রো (বর্শা নিক্ষেপ) খেলোয়াড়। ২০২৪ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয় করবার পর তিনি বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসেন। স্বর্ণপদক জয়ের সাথে সাথে ৯২.৯৭ মিটার (৩০৫ ফুট) জ্যাভলিন ছুঁড়ে তিনি একটি অলিম্পিক রেকর্ড স্থাপন করেন।[২] তাঁর এই স্বর্ণপদক বিজয় পাকিস্তানকে গত ৩২ পর অলিম্পিকে স্বর্ণপদক এনে দেয়।[৩]
আরশাদ নাদিম পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মিয়া চান্নুতে একটি পাঞ্জাবি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন[৪]। পরিবারটি সুখেরা রাজপুত সম্প্রদায়ের অন্তর্গত। তিনি আট ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। নাদিম তার প্রারম্ভিক স্কুল বছর থেকে একটি ব্যতিক্রমী বহুমুখী ক্রীড়াবিদ ছিলেন।[২] তিনি সমস্ত খেলাতেই অংশগ্রহণ করলেও তাঁর মূল পছন্দের ছিল ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও অ্যাথলেটিক্স। ক্রিকেট ছিল তার আবেগ। আরশাদ নাদিম জেলা স্তরের টেপ বল ক্রিকেট টুর্নামেন্টেও খেলেছেন[৫]। স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর, নাদিম একটি অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার সময় রাশেদ আহমদ সাকির নজরে পড়ে। সাকি প্রতিভাশালী ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করা এবং তাদের গড়ে তোলার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। এবং এর পরেই নাদিমকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।[৬][৭]
পাকাপাকি ভাবে জ্যাভলিন থ্রো শুরু করার আগে নাদিম শটপুট এবং ডিসকাস থ্রোও খেলতেন। পাঞ্জাব যুব উৎসবে তিনি পরপর স্বর্ণপদক জয়লাভ করেন এবং পাকিস্তানের একটি আন্ত: বোর্ড মিট প্রতিযোগিতা তাকে জাতীয় স্তরে তুলে আনে। তারপর তিনি পাকিস্তানের সমস্ত অগ্রণী প্রাদেশিক বোর্ড গুলো থেকে অফার পেতে থাকেন, তাদের মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পাকিস্তান বিমানবাহিনী, এবং পাকিস্তানের জল ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও ছিল[৭]। তার বাবা, মুহাম্মদ আশরাফ, নাদিম কে জ্যাভলিন নিক্ষেপের খেলায় অংশগ্রহণ করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন[৮]। নাদিম প্রথম জীবনে ক্রিকেটার হতে চাইলেও পরবর্তীকালে তিনি নিজের মন বদল করে জ্যাভলিনে মনোনিবেশ করেন। নাদিম পরে নিজেই স্বীকার করেছেন এটাই তাঁর সাথে ঘটা সর্বোত্তম ঘটনা।[৩]
আরশাদ নাদিম বিবাহিত। তার একটি মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান।[৯] নাদিম নিজেকে একজন অত্যন্ত লাজুক প্রকৃতির বলে মনে করেন।[১০]
তার কোচ সালমান ইকবাল বাট যিনি পাকিস্তানের একজন জাতীয় পর্যায়ের ডিসকাস থ্রোয়ার তিনি নাদিম সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন যে নাদিম একজন শ্রদ্ধাশীল এবং অনুগত অ্যাথলিট যে সবসময় কোচের কথা মেনে চলে। তিনি আরও বলেন যে নাদিম মনোযোগী এবং নাদিম কখনোই তাঁর ব্যর্থতাকে বেশিদিন আঁকড়ে বসে থাকেনা।[১০]
[...] the broad-chested, 1.92m-tall (6ft-3-inch-tall) athlete [...]