আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আবু আব্দআল্লাহ শামস আদ-দীন আয-যাহাবী | |
---|---|
উপাধি | ইমাম |
জন্ম | ৫ অক্টোবর, ১২৭৪ খ্রিষ্টাব্দ দামেস্ক, মামলুক সালতানাত |
মৃত্যু | ৩ ফেব্রুয়ারি ১৩৪৮ খ্রিষ্টাব্দ (৭৪ বছর) |
অঞ্চল | সিরিয়া |
সম্প্রদায় | সুন্নী ইসলাম[১] |
মাজহাব | শাফিঈ |
শাখা | আছারি[২] |
মূল আগ্রহ | হাদিস, ইতিহাস, চিকিৎসা বিজ্ঞান, ফিকহ |
লক্ষণীয় কাজ | সিয়ারু আলাম আল-নুবালা, তারিখ আল ইসলাম আল কাবির, তাযকিরাতুল হুফফাজ,আল কাবাইর ও তাহজিবুত তাহজিব আল কামাল |
যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন
| |
যাদেরকে প্রভাবিত করেছেন
|
মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান ইবনে কাইয়ুম আবু আব্দআল্লাহ শামস আদ-দীন আয-যাহাবী (আরবি: محمد بن احمد بن عثمان بن قيوم ، أبو عبد الله شمس الدين الذهبي) (জন্ম:১২৭৪ - মৃত্যু:১৩৪৮[৩]) একজন বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ইসলামি ইতিহাসবেত্তা। তিনি আয-যাহাবী নামে পরিচিত।
আয-যাহাবী ৫ অক্টোবর ১২৭৪ সালে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন[৪], তার পিতামহ উসমানের সময় থেকে তার পরিবার সেখানে বসবাস করে আসছিলো। তিনি মাঝে মাঝে তার পিতার পেশার কারণে নিজেকে ইবনুল যাহাবী (স্বর্ণকারের পুত্র) হিসেবে পরিচয় দিতেন।
তিনি আঠারো বছর বয়সে হাদিস শিক্ষার জন্য দামেস্ক থেকে বালবেক, হিমস, হামা, আলেপ্পো, নাবুলুস, কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া, জেরুজালেম, হিজাজ ইত্যাদি স্থানে ভ্রমণ করেন । শিক্ষা সমাপ্ত হলে দামেস্ক ফিরে আসেন এবং শিক্ষকতা ও হাদিস গবেষণা শুরু করেন। তার শিক্ষকদের মধ্যে ২ জন উল্লেখযোগ্য শিক্ষক হলেনঃ শায়েখ ইবনে তাইমিয়া এবং ইবনে দাকিকুল ইদ। তিনি ১০০ জনের বেশি নারী ইসলামি পন্ডিতের কাছে শিক্ষালাভ করেন। তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষিকা জায়নাব বিনতে উমার আল কিন্দি ছিলেন বিখ্যাত নারী মুহাদ্দিস।
তার হাদিস, ফিকহ ও আকিদার উল্লেখযোগ্য শিক্ষকগণ হলেনঃ
অল্পবয়সেই তিনি ইতিহাসবিদ, জীবনীকার এবং হাদিস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ পরীক্ষক হিসাবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। তার প্রায় ১০০ টি রচনার বেশিরভাগ-ই গুরুত্বপূর্ণ। হাদিস ও ইতিহাসের পাশপাশি রিজালশাস্ত্রে তার অবদান অপরিসীম। এছাড়া তিনি চিকিৎসাবিদ্যা নিয়েও কাজ করেছেন। বিশেষ করে ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ চিকিৎসাকর্ম সংক্রান্ত কাজে তার উপস্থাপনায় সহজবোধ্যতা ছিল। তার শিক্ষার প্রভাবে পরবর্তীকালে জন্ম হয় জগৎবিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে হাজার আসকালানী এবং নাসির আল দিমাশকির । তার রচিত কিতাবগুলো থেকে এখনো ইসলামি পন্ডিত ও ছাত্ররা জ্ঞানলাভ করে থাকেন। এই ৭০০ বৎসর যাবত তার কিতাবগুলো পঠন-পাঠন হয়ে আসছে, এবং এখনো সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।
ইমাম আয-যাহাবি বৃদ্ধ বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং এর ২ বৎসর পর ১৩৪৮ সালে এই মহান ইমাম মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার যে ৩ সন্তান (এক কন্যা ও দুই পুত্র) জীবিত ছিলেন তারা হলেনঃ একমাত্র কন্যা আমাত আল আযিয এবং ২ পুত্র: আব্দুল্লাহ ও আবু হুরাইরা আব্দুর রহমান।
ইমাম আল- সুয়ুতি বলেনঃ
বর্তমানকালের হাদিসবিশারদগণ রাবি-সমালোচনা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে চারজন মুহাদ্দিসের উপর নির্ভর করেন, যারা হলেনঃ আল মিযযি, আয-যাহাবী, আল ইরাকি এবং ইবনে হাজর আসকালানি।
৪। The Female Teachers of the Historian of Islam: al-Ḏh̲ahabī (PDF) ৫। " al-Ḏh̲ahabī." Encyclopaedia of Islam, Second Edition. Brill Online , 2012. Reference. Princeton University Library. 09 June 2012 ৬। al-Sakhawi, al-Daw' al-Lami` (8:103). ৭। Cf. al-`Uluw (Abu al-Fath) and al-Muqiza (Ibn Wahb). ৮। Siyar A`lam al-Nubala [SAN] (17:118–119 #6084, 16:300–302 #5655). ৯। Emilie Savage-Smith, "Medicine." Taken from Encyclopedia of the History of Arabic Science, Volume 3: Technology, Alchemy and Life Sciences, pg. 928. Ed. Roshdi Rashed. London: Routledge, 1996. আইএসবিএন ০৪১৫১২৪১২৩ ১০। Ibn Hajar, al-Mu`jam (p. 400 #1773) ১১। Ibn Hajar, al-Mu`jam (p. 400 #1774). ১২। http://www.sunnah.org/history/Scholars/al_dhahabi.htm ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৮ মে ২০১৬ তারিখে