গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় | |
---|---|
জন্ম | [১] বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত | ১০ জানুয়ারি ১৮৮০
মৃত্যু | ১৮ জুলাই ১৯৬৩ বিষ্ণুপুর বাঁকুড়া পশ্চিমবঙ্গ,ভারত | (বয়স ৮৩)
ধরন | হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত |
পেশা | কণ্ঠশিল্পী, সংগীতজ্ঞ |
বাদ্যযন্ত্র | সুরবাহার, সেতার |
কার্যকাল | ১৮৯৫–১৯৬৩ |
লেবেল | গ্রামোফোন কোম্পানি অব ইন্ডিয়া |
আত্মীয় | গণেশ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (পুত্র) বিশ্বরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় (নাতি) দেব রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় (নাতি) স্বরাজ রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় (নাতি) নিখিল রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় (নাতি) ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় (নাতি) কৃষ্ণা অধিকারী (নাতনী) অর্চনা মৈত্র (নাতনী) |
গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় (১০ জানুয়ারি ১৮৮০ - ১৮ জুলাই ১৯৬৩) একজন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত গায়ক এবং সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। তিনি হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের বিষ্ণুপুর ঘরানায় গান গাইতেন, যার উদ্ভব পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর থেকে।[২] তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়াও খেয়াল এবং ধ্রুপদ গানের জন্য খ্যাতিমান ছিলেন। তিনি ঠুংরীও গাইতেন এবং তাঁর গাওয়া একটি বিখ্যাত ঠুংরী হল মিশ্র খাম্বাজ রাগের কন গলি গ্যায়ো শ্যাম। গানটি খুব জনপ্রিয় হয়েছিল।[৩] সঙ্গীতজ্ঞ হিসাবে তিনি ধ্রুপদ ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের স্বরলিপিসহ কয়েকটি বিরল গানের বই প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ১৮৯৫ সালে বর্ধমানের মহারাজার সভায় সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে তাঁর সঙ্গীত জীবন শুরু করেছিলেন এবং ১৯২৪ সাল পর্যন্ত ২৯ বছর ধরে সেখানে কাজ করেছিলেন। এরপরে তিনি কলকাতায় চলে আসেন। তাঁর সঙ্গীত জীবনের শেষের দিকে, ১৯৬২ সালে তাঁকে সংগীত নাটক আকাদেমি ফেলোশিপে ভূষিত করা হয়েছিল, এটি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত, নৃত্য ও নাটক একাডেমি সংগীত নাটক আকাদেমির দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মান।
গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ জানুয়ারি (১২৮৬ বঙ্গাব্দের ২৫শে পৌষ) অবিভক্ত বাংলার বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়ায়।[৪] তিনি ছিলেন তাঁর পিতা অনন্তলাল ব্যানার্জীর দ্বিতীয় পুত্র, যিনি বিষ্ণুপুরের রামকৃষ্ণ সিংহদেবের সভাগায়ক ছিলেন। তিনি রামশঙ্কর ভট্টাচার্যের শিষ্য ছিলেন,[৫] পরে বিষ্ণুপুরের আবাসিক সঙ্গীত বিদ্যালয় "বিষ্ণুপুর সংগীত বিদ্যালয়" এর প্রথম শিক্ষক হন। পরে এর নামকরণ করা হয় রামসরণ মিউজিক কলেজ।[৬] তাঁর তিন পুত্র রামপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সকলেই ছিলেন গায়ক এবং সঙ্গীতজ্ঞ। তাঁরা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে মূল্যবান দলিল রচনা এবং সঙ্গীত স্বরলিপি কাজ করেছিলেন।[৫][৭] সবচেয়ে বড়, রামপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন, সংগীত মঞ্জরি (১৯৩৫), যাতে ছিল সঙ্গীত ধারণার উপর তাত্ত্বিক নিবন্ধ। এছাড়াও এতে ছিল আবৃত্তিতে অনুকূল অনুশীলন ছাড়াও বিভিন্ন ধারা যেমন ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুংরী এবং টপ্পার স্বরলিপি।[৫]
তার ছোট ভাই সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী এবং বিষ্ণুপুর ঘরানার অন্যতম পথিকৃৎ। পরে বিষ্ণুপুরের রামশরণ মিউজিক কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৩ সালের ২৮শে জুলাই বিষ্ণুপুরে তার মৃত্যু হয়।[৮]
তিনি বিহারের বেতিয়া ঘরানার সঙ্গীতজ্ঞদের কাছ থেকে তার সঙ্গীত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন, যেমনটি বিষ্ণুপুর ঘরানার আর এক সমসাময়িক গায়ক, রাধিকাপ্রসাদ গোস্বামী করেছিলেন।[৯]
সঙ্গীত জীবনের প্রথমদিকে, ১৮৯৫ সালে তিনি বর্ধমানের মহারাজার সভা গায়ক নিযুক্ত হন, এখানে তিনি পরবর্তী ২৯ বছর অর্থাৎ ১৯২৪ সাল পর্যন্ত কাজ করেছিলেন। এটি তাঁর সঙ্গীত জীবনের সবচেয়ে ফলপ্রসূ সময় ছিল। তিনি ভারতীয় সঙ্গীতের তত্ত্ব এবং ইতিহাসের গবেষণায় তার সময় উৎসর্গ করেছিলেন।[১০] তিনি মহারাজার সাথে ভারত জুড়ে ভ্রমণ করেছিলেন এবং তৎকালীন বেশ কয়েকজন নামী সঙ্গীতকারের সাথে পরিচিত হন। এর ফলে তাঁর বিভিন্ন সঙ্গীতের ঐতিহ্য এবং ঘরানার জ্ঞান প্রসারিত হয়েছিল।[১১] তিনি মহারাজা যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের দরবারে কর্মরত সৈয়দ মোহাম্মদের কাছ থেকে সুরবাহার বাজাতে শিখেছিলেন, এরপরে তিনি ইমদাদ খানের কাছ থেকেও সেতার বাজাতে শেখেন। খানের সাথে তাঁর সুরবাহার বাজনা, বাণিজ্যিকভাবে রেকর্ড করা হয়েছিল।[১১] বর্ধমানে থাকাকালীন তিনি দুটি খণ্ডে সংগীত চন্দ্রিকা প্রকাশ করেছিলেন, এটি ছিল ভারতে সঙ্গীতবিদ্যার একটি প্রাথমিক এবং গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা।[১২] এটিতে বাংলা এবং হিন্দি গানের সুরারোপিত একটি সংগ্রহও অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১৩] তার সঙ্গীতশাস্ত্র সম্পর্কিত অন্যান্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে গীত-দর্পণ, গীত-প্রবেশিকা এবং সংগীত-লহরী, সবগুলিই বাংলা ভাষায়।