জাগ্রতা মুসলিম জনতা বাংলাদেশ[১] যা জেএমজেবি নামেও পরিচিত, এটি বাংলাদেশের, বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি ইসলামপন্থী চরমপন্থী সংগঠন।[২][৩] বাংলাদেশ সরকার জেএমজেবিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে এবং নিষিদ্ধ করেছে।[৪] এটি জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কিত, এবং বাংলাদেশ পুলিশ এটিকে একটি অফ শট হিসাবে বর্ণনা করেছে।[৫][৬]
১৯৯০ এর দশকের শেষদিকে রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলায় জেএমজেবি গঠিত হয়[৭] এবং এটি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে স্পটলাইটে আসে। শুরুর দুকে এটি কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের মোকাবেলা করার জন্য সরকারের কিছু সমর্থন পেয়েছিল।[৮] দলটি বিএনপি- জামাত-ই-ইসলামী সরকারের সমর্থনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের ওপরও হামলা চালায়।[৯] উইকিলিকস দ্বারা প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা অনুসারে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জেএমজেবি নেতার মুক্তির অনুরোধ করেছিলেন।[১০] ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ তারিখে সরকার কর্তৃক সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়।[১১]
এর নেতাদের মধ্যে রয়েছে এর সাবেক প্রধান সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই,[১২] এবং শায়খ আবদুর রহমান। বাংলাদেশ সরকার বাংলা ভাইকে ধরার জন্য একটি বড় পুরস্কার ঘোষণা করার পর,[১৩] ২০০৬ সালের মার্চে ময়মনসিংহ জেলায় পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের হাতে ধরা পরে। জেএমজেবি দুই নেতা বাংলা ভাই এবং শায়খ আবদুর রহমান দ্বারা পরিচালিত হতো।[১৪] বাংলা ভাই ও শায়খ আবদুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়[১৫] ২০০৭ সালের মার্চে।
জেএমজেবি জামাত-ই-ইসলামী বাংলাদেশের কঠোর সমালোচক। তারা দলটিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার পৃষ্ঠপোষকতা এবং ইসলামি মূল্যবোধ ও নীতির অবমাননা করার কারণে ধর্মবিরোধী বলে মনে করে। গ্রুপটি আফগান তালেবানের আদর্শে অনুপ্রাণিত। পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির বামপন্থী গেরিলা আন্দোলনকে আক্রমণ করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকারের কিছু সদস্য তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল।[৮] তারা বাংলাদেশে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।[১৬]