![]() ১৯৫২ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে জ্যাক চিদাম | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
ব্যক্তিগত তথ্য | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
পূর্ণ নাম | জন আরস্কাইন চিদাম | |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
জন্ম | কেপ টাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা | ২৬ মে ১৯২০|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
মৃত্যু | ২১ আগস্ট ১৯৮০ জোহেন্সবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা | (বয়স ৬০)|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
ব্যাটিংয়ের ধরন | ডানহাতি | |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
বোলিংয়ের ধরন | লেগ ব্রেক | |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
ভূমিকা | ব্যাটসম্যান, অধিনায়ক | |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
আন্তর্জাতিক তথ্য | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
জাতীয় দল |
| |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ১৭১) | ৫ মার্চ ১৯৪৯ বনাম ইংল্যান্ড | |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
শেষ টেস্ট | ১৩ আগস্ট ১৯৫৫ বনাম ইংল্যান্ড | |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩১ অক্টোবর ২০১৮ |
জন আরস্কাইন জ্যাক চিদাম (ইংরেজি: Jack Cheetham; জন্ম: ২৬ মে, ১৯২০ - মৃত্যু: ২১ আগস্ট, ১৯৮০) কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও অধিনায়ক ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৫ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন তিনি।
ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ মাঝারিসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, লেগ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন জ্যাক চিদাম।
৫ মার্চ, ১৯৪৯ তারিখে টেস্ট অভিষেক ঘটে জ্যাক চিদামের। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ২৪ টেস্ট খেলার সৌভাগ্য হয় তার। তন্মধ্যে ১৫ টেস্টে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন জ্যাক চিদাম। এ সময়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মুখ দেখে দক্ষিণ আফ্রিকা দল। তন্মধ্যে, ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজ ড্র, ১৯৫২-৫৩ ও ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে দেশের বাইরে ও নিজদেশে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় করে তার দল। এছাড়াও ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ৩-২ ব্যবধানে স্বাগতিক দলের কাছে পরাজয়বরণ করেছিল সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দল।
১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকান ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, ডিসেম্বর, ১৯৫১ সালে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে অপরাজিত ২৭১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।[১] এ সংগ্রহটি কারি কাপের ইতিহাসে তৎকালীন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল। এর পাঁচদিন পর এরিক রোয়ান ট্রান্সভালের সদস্যরূপে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের বিপক্ষে অপরাজিত ২৭৭ রান করে রেকর্ডটি নিজের করে নেন।[২]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জ্যাক চিদাম মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত ছিলেন।[৩] কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর মারে এন্ড রবার্টস নামীয় অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার পর পরিচালক মনোনীত হন।
২১ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে ৬০ বছর বয়সে জোহেন্সবার্গে জ্যাক চিদামের দেহাবসান ঘটে।
রডনি হার্টম্যান তার সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, চিদাম ভদ্রলোকের আদর্শ প্রতিচিত্রস্বরূপ। ক্রীড়াবিদ ও মানবিক সেরা গুণাবলী তার মাঝে বিদ্যমান। তিনি নিজ দেশের অধিনায়কের দায়িত্ব লাভে আদর্শস্থান ধরে রাখতে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন।[৪]
১৯৬৮ সালে বর্ণবৈষম্যবাদ সময়ে সংঘটিত ডি’অলিভেইরা ঘটনায় জ্যাক চিদামকে সংবাদবাহকরূপে এমসিসি বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছিল। এতে দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মিশ্রবর্ণের ব্যাসিল ডি’অলিভেইরাকে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অন্তর্ভুক্ত না করার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (সাকা) সহঃ সভাপতির দায়িত্বে থেকে সকল ধরনের ক্রীড়ায় অংশগ্রহণে বাঁধার প্রাচীর গড়ে তুলেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রেখে সাকা থেকে প্রেরিত চিঠিতে ডি’অলিভেইরার বিষয়ে কোন কিছুই ছিল না ও এমসিসি থেকে প্রত্যুত্তরে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয় যে এমসিসি সফর চালিয়ে যাবার বিষয়ে সবটুকুই করবে।[৫]
তার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠান থেকে জ্যাক চিদাম স্মারক পুরস্কারের প্রবর্তন ঘটানো হয়। অবহেলিত সম্প্রদায়ের মাঝে ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানকারীকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।[৬]