মাওলা ( আরবি: مَوْلَى , বহুবচন মাওয়ালি مَوَالِي ), বহুমুখী অর্থ প্রকাশক এমন একটি ধ্রুপদি আরবি শব্দ, সময়কাল এবং প্রাসঙ্গিকতার বিবেচনায় যার অর্থ ভিন্ন ভিন্ন হয়। [১]
মুহাম্মাদের আবির্ভাবের আগে, এ শব্দটি দ্বারা মূলত আরবের গোত্র সম্পর্কিত অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হতো। [২] কুরআন ও হাদীসে শব্দটিকে 'প্রভু', 'অভিভাবক' এবং 'আমানতদার' সহ অনেক রকম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। [১]
মুহাম্মাদের পরলোক গমনের পর এ গোত্রটি উমাইয়া রাজবংশের দ্বারা অনারব-ধর্মান্তরিত মুসলিমদের ইসলাম ধর্মে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অভিযোজিত হয়েছিল এবং মাওয়ালি শব্দটি প্রাক ইসলামিক খিলাফত শাসনামলে ধর্মান্তরিত অনারব মুসলমানদের কাছ থেকে আরোপিত জিযিয়া কর গ্রহন প্রথা কে বুঝায়।
গাদির খুম নামক স্থানের বক্তৃতায় ইসলামের নবী মুহাম্মাদ কর্তৃক আলীকে কেন্দ্র করে "মাওলা" শব্দটি ব্যবহার করেন। [৩] মাওলা শব্দটি মূল و ل ي w-l-y থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "কাছে থাকা" বা "ক্ষমতা থাকা"। কর্তৃ ও কর্ম বাচ্যে ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে মাওলার পারস্পরিক অর্থ হতে পারে: "মাস্টার" মূলত, মাওয়ালিরা ছিলেন আরব জনগণের আশ্রিত, কিন্তু ইসলামের আবির্ভাবের সময়ে, শব্দটি অনারব মুসলমান এবং অন্যান্য মিত্র গোত্রগুলোকে বুঝাতে ব্যবহৃত হতো।
নবম শতাব্দীতে আব্বাসীয় শাসকদের অধীনে অনারব ধর্মান্তরিতরা সেনাবাহিনীর অন্তর্ভূক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। উমাইয়াদের পতনের পর মুসলিম সমাজে প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে মাওয়ালি গোত্র প্রথা বন্ধ হয়ে যায়, কারণ আব্বাসীয়রা ইসলামের একটি সর্বজনীন ব্যাখ্যার পক্ষে ছিল যা আরব অভিজাতদের একচেটিয়া ধর্ম ছিল না।
পুরো শতাব্দী জুড়ে আঞ্চলিক আরব রাজবংশ এবং অনারব গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক ক্ষমতার উত্থান ঘটে অবশেষে বাগদাদ, পারস্য, তুর্কি এবং বারবার মুসলিমরা স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত সালতানাত গঠন করতে শুরু করায় আব্বাসীয় খলিফাদের ক্ষমতা সীমিত হতে থাকে।
আবু হানিফা ছিলেন সুন্নি ইসলামের মধ্যে হানাফি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং আব্বাসীয় বিপ্লবের সময় জীবিত ছিলেন। তিনি তার বিখ্যাত একটি উক্তিতে বলেছেন: "একজন নতুন ধর্মান্তরিত তুর্কীর বিশ্বাস হেজাজের একজন আরবের মতই।"
এ গোত্রটি আব্বাসীয় আমলে অনেক ছোট পরিসরে অব্যাহত ছিল যখন অষ্টম আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতাসিম খলিফার সেবায় সম্পূর্ণরূপে অ-আরবদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ব্যক্তিগত বাহিনী গঠন করেছিলেন। এ বাহিনীর ব্যক্তিরা খলিফার মাওয়ালি ছিলেন এবং একইভাবে খলিফার প্রতি অধিক অনুগত্য ছিলেন। এ প্রথা উসমানীয় শাসন আমলের ইসলামী ইতিহাস জুড়ে অব্যাহত ছিল।
"মাওলা" শব্দটিকে গাদির খুম নাম ঘটনায় একটি বিবেচনাযোগ্য শব্দ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে ( ইসলামের নবী মুহাম্মাদ কর্তৃক আলী সম্পর্কে ঘোষিত বাক্য বিষয়ে, যাতে তিনি বলেছিলেন: "আমি যার মাওলা, 'আলী তার মাওলা' ")। "মাওলা" শব্দের এই ব্যবহারের জন্য নেতা,[৪] প্রশাসক,[৫] বন্ধু,[৬] প্রভু, মালিক, প্রভু, অনুসারী, যে কোন বিষয়ে অধিক হকদার, ওয়ালী, একজন মিত্র, ইত্যাদি সহ বিভিন্ন অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে। । [৭] শিয়ারা যুক্তি দেয় যে খুতবার (গাদিরে খুম) প্রসঙ্গে, "মাওলা" শব্দটিকে "নেতা" হিসাবে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল। তাই তারা এটিকে নবীর উত্তরসূরি হিসাবে আলীর পদাধিকার নির্ধারক বলে মনে করেন।[৩]