মারিয়া আলেকসেয়েভ্না অস্পেন্স্কায়া (রুশ: Мария Алeкceeвнa Успенская; ২৯ জুলাই ১৮৭৬ – ৩ ডিসেম্বর ১৯৪৯) ছিলেন একজন রুশ অভিনেত্রী ও অভিনয়ের শিক্ষক।[১] তিনি তরুণী হিসেবে রাশিয়া মঞ্চ অভিনেত্রী হিসেবে এবং বয়োজ্যেষ্ঠ নারী হিসেবে হলিউডের চলচ্চিত্রে সফলতা অর্জন করেন।[২] তিনি ডডসওয়ার্থ (১৯৩৬) ও লাভ অ্যাফেয়ার (১৯৩৯) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দুইবার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন এবং কনকোয়েস্ট (১৯৩৭) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ন্যাশনাল বোর্ড অব রিভিউ পুরস্কার অর্জন করেন।
অস্পেন্স্কায়া ১৮৭৬ সালের ২৯শে জুলাই রুশ সাম্রাজ্যের তুলা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পোল্যান্ডের ওয়ারশতে গান এবং মস্কোতে অভিনয় বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি বিশ্ববিখ্যাত মস্কো শিল্পকলা থিয়েটারের ফার্স্ট স্টুডিওর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সেখানে তিনি কনস্তান্তিন স্তানিস্লাভ্স্কি ও তার সহকারী লেওপল্ড সুলেরঝিৎস্কির অধীনে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ লাভ করেন।[৩]
মস্কো শিল্পকলা থিয়েটার ইউরোপ জুড়ে সফর করে এবং ১৯২২ সালে নিউ ইয়র্ক সিটিতে পৌঁছালে অস্পেন্স্কায়া সেখানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি পরবর্তী দশকে নিয়মিত ব্রডওয়ে মঞ্চে অভিনয় করেন। তিনি আমেরিকান ল্যাবরটরি থিয়েটারে অভিনয়ের শিক্ষাদান করতেন।[৪] ১৯২৯ সালে তার মস্কো শিল্পকলা থিয়েটারের সহকর্মী রিচার্ড বলেস্লাভ্স্কিকে নিয়ে তিনি নিউ ইয়র্ক সিটিতে স্কুল অব ড্রামাটিক আর্ট প্রতিষ্ঠা করেন।[৪] এই সময়ে এই স্কুলে তার একজন শিক্ষার্থী ছিলেন সেসময়ে অপরিচিত কিশোরী ও পরবর্তী কালে অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী অ্যান ব্যাক্সটার।[৫]
অস্পেন্স্কায়া কয়েকটি রুশ নির্বাক চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও তার স্কুলের আর্থিক সমস্যা না আসা পর্যন্ত হলিউড থেকে দূরে ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকের পপুলার সং ম্যাগাজিনের বিজ্ঞাপন অনুসারে এই সময়ে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের ভাইন স্ট্রিটে মারিয়া অস্পেন্স্কায়া স্কুল অব ড্যান্স চালু করেন। তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ডিজনির স্নো হোয়াইটের মডেল মার্জ চ্যাম্পিয়ন।[৬]
তার রুশ বাচনভঙ্গি সত্ত্বেও তিনি হলিউডের চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পান এবং বিভিন্ন ইউরোপীয় চরিত্রে অভিনয় করেন।[৭] তার অভিনীত প্রথম হলিউডের চলচ্চিত্র হল ডডসওয়ার্থ (১৯৩৬), এই কাজের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।[৮] এটি ছিল সবচেয়ে কম সময় পর্দায় উপস্থিত থেকেও অস্কারের মনোনয়ন অর্জন। পরের বছর তিনি কনকোয়েস্ট (১৯৩৭) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনয়ের জন্য ন্যাশনাল বোর্ড অব রিভিউ পুরস্কার অর্জন করেন। লাভ অ্যাফেয়ার (১৯৩৯) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে তার দ্বিতীয় একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।[৯]
তিনি ভীতিপ্রদ চলচ্চিত্র দ্য উল্ফ ম্যান (১৯৪১) ও ফ্রাঙ্কেস্টাইন মিটস দ্য উল্ফ ম্যান (১৯৪৩)-এ বৃদ্ধ যাযাবর ভবিষ্যদ্বক্তা মালেভা চরিত্রে অভিনয় করেন।[১০] তার অন্যান্য চলচ্চিত্রগুলো হল দ্য রেইন্স কেম (১৯৩৯), ওয়াটারলু ব্রিজ (১৯৪০), বিয়ন্ড টুমরো (১৯৪০), ড্যান্স, গার্ল, ড্যান্স (১৯৪০), দ্য মর্টাল স্টর্ম (১৯৪০), ডক্টর এরলিখ্স ম্যাজিক বুলেট (১৯৪০), এবং কিংস রো (১৯৪২)। তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র হল আ কিস ইন দ্য ডার্ক (১৯৪৯)
অস্পেন্স্কায়া স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এবং বাড়িতে আগুন লাগার পর গায়ে আগুন লেগে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে ১৯৪৯ সালের ৩রা ডিসেম্বর ৭৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।[৪] তাকে গ্লেনডেলের ফরেস্ট লন মেমোরিয়াল পার্ক সেমেটারিতে সমাহিত করা হয়।[১০]
বছর | চলচ্চিত্রের শিরোনাম | মূল শিরোনাম | চরিত্র | টীকা |
---|---|---|---|---|
১৯৩৬ | ডডসওয়ার্থ | Dodsworth | ব্যারোনেস ফন ওবারসডর্ফ | মনোনীত: শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার |
১৯৩৭ | কনকোয়েস্ট | Conquest | কাউন্টেস পেলাগিয়া ভালেভ্স্কা | বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ অভিনয়ের জন্য ন্যাশনাল বোর্ড অব রিভিউ পুরস্কার |
১৯৩৯ | লাভ অ্যাফেয়ার | Love Affair | দাদী | মনোনীত: শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার |
দ্য রেইন্স কেম | The Rains Came | মহারানী | ||
জাজ হার্ডি অ্যান্ড সন | Judge Hardy and Son | মিসেস জুডিথ ভলদুজ্জি | ||
১৯৪০ | ডক্টর এরলিখ্স ম্যাজিক বুলেট | Dr. Ehrlich's Magic Bullet | ফ্রানৎজিস্কা স্পেয়ার | |
বিয়ন্ড টুমরো | Beyond Tomorrow | ম্যাডাম তানিয়া | ||
ওয়াটারলু ব্রিজ | Waterloo Bridge | মাদাম ওলগা কিরোভা | ||
দ্য মর্টাল স্টর্ম | The Mortal Storm | মিসেস ব্রেইটনার | ||
দ্য ম্যান আই ম্যারিড | The Man I Married | ফ্রাউ গেরহার্ট | ||
ড্যান্স, গার্ল, ড্যান্স | Dance, Girl, Dance | মাদাম লিডিয়া বাসিলোভা | ||
১৯৪১ | দ্য উল্ফ ম্যান | The Wolf Man | মালেভা | |
দ্য সাংহাই গেসচার | The Shanghai Gesture | আমাহ | ||
১৯৪২ | কিংস রো | Kings Row | মাদাম ভন এন | |
দ্য মিস্ট্রি অব ম্যারি রজেট | The Mystery of Marie Roget | সেসিল রজেট | ||
১৯৪৩ | ফ্রাঙ্কেস্টাইন মিটস দ্য উল্ফ ম্যান | Frankenstein Meets the Wolf Man | মালেভা | |
১৯৪৫ | টারজান অ্যান্ড দি অ্যামাজন্স | Tarzan and the Amazons | অ্যামাজনের রানী | |
১৯৪৬ | আই হ্যাভ অলওয়েজ লাভড ইউ | I've Always Loved You | মাদাম গনোরভ | |
১৯৪৭ | ওয়াইয়োমিং | Wyoming | মারিয়া | |
১৯৪৯ | আ কিস ইন দ্য ডার্ক | A Kiss in the Dark | কারিনা | অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র |