মুকেশ খান্না | |
---|---|
ভারতের ৪৭তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মুকেশ (২০১৬) | |
জাতীয়তা | ভারতীয় |
মাতৃশিক্ষায়তন | ভারতীয় চলচ্চিত্র ও দূরদর্শন সংস্থান |
পেশা | অভিনেতা |
কর্মজীবন | ১৯৮০-বর্তমান |
মুকেশ খান্না হচ্ছেন ভারতের একজন অভিনেতা যিনি মূলত টেলিভিশন ধারাবাহিকে কাজ করেছেন। তিনি দূরদর্শন চ্যানেলের শিশুতোষ ধারাবাহিক "শক্তিমান" (নব্বইয়ের দশকে প্রচারিত, মুখ্য চরিত্রে ছিলেন মুকেশ) -এর জন্য বিশেষ পরিচিত, এছাড়াও আশির দশকের শেষের দিকে দূরদর্শন চ্যানলেই প্রচারিত "মহাভারত" ধারাবাহিকে অভিনয় করে মুকেশ তুমুল দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। ভারতের শিশু চলচ্চিত্র সমাজ-এর সভাপতি ছিলেন মুকেশ যে পদ থেকে তিনি স্বেচ্ছায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগ করেন।[১][২] তিনি এমকে ফিল্মস নামের একটি স্ব-প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খুলেছিলেন। তিনি একটি সংগঠন পরিচালনা করেন যেটা পথপ্রাণীদেরকে বিশেষ করে কুকুরদেরকে খাবার দেয় এবং 'শক্তিমান প্রকল্প' নামের একটি সংগঠন দ্বারা তিনি অনাথ বাচ্চাদেরও খাবার এবং কাপড় দেন।[৩]
পঞ্চাশের দশকে জন্মগ্রহণকারী মুকেশ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন এবং তিনি পুণের ভারতীয় চলচ্চিত্র ও দূরদর্শন সংস্থানে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন সত্তরের দশকে, নাসিরুদ্দীন শাহ এবং শক্তি কাপুর তার সঙ্গেই পড়তেন, যদিও তারা দুজনেই মুকেশের চেয়ে অল্প একটু বড় ছিলেন।[৪] চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলেও মুকেশ তার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেননা কারণ তিনি যেগুলোতে সুযোগ পেতেন সেগুলো হতো নিচু বাজেটের চলচ্চিত্র, তাই তিনি টেলিভিশন ধারাবাহিকে কাজ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন, এবং ভারতে তখন হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেল একটাই আর সেটা সরকারের দূরদর্শন চ্যানেল, মুকেশ এই চ্যানেলের জন্য বানানো নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন খুব দ্রুতই।
আশির দশকে মুকেশ অভিনীত দূরদর্শন চ্যানেলের নাটকগুলোর মধ্যে "বাহাদুর শাহ জাফর" (১৯৮৬) ছিলো অন্যতম যেখানে অশোক কুমার বাহাদুর শাহ জাফর চরিত্রে ছিলেন এবং পরে রাজ বব্বর নাটকটিতে বাহাদুর শাহর ভূমিকায় অভিনয় করেন।
দূরদর্শন চ্যানেলের ধারাবাহিক "মহাভারত", "শক্তিমান", "আর্যমানঃ ব্রহ্মান্ডের যোদ্ধা" - এই নাটকত্রয় মুকেশকে জনপ্রিয়তার উচ্চতম শিখরে পৌঁছে দিয়েছিলো। প্রথম জীবনে তিনি নায়ক চরিত্রে নিম্নমানের চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলেও পরবর্তী জীবনে ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র "হেরা ফেরি"তে মুকেশ একজন পুলিশ পরিদর্শকের চরিত্রে ছিলেন, তিনি "তাহালকা" চলচ্চিত্রে সামরিক কর্মকর্তা এবং "ইন্টারন্যাশনাল খিলাড়ি" চলচ্চিত্রে অক্ষয় কুমারের অভিভাকের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, "বারসাত" চলচ্চিত্রে তিনি ববি দেওলের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
মহাভারত নাটকটি দেখে একতা কাপুর অনুপ্রাণিত হয়ে একই ধরনের একটি নাটক ২০০৮ সালে নির্মাণ করেছিলেন যেটার নাম ছিলো "কাহানি হামারে মহাভারত কি", নাইনএক্স চ্যানেলে দেখানো এই নাটকে মুকেশ অভিনয় করতে রাজী হননি। আশির দশকের "মহাভারত" নাটকটি পরিচালনা করেছিলেন বলদেব রাজ চোপড়া, ঐ নাটকে মুকেশ ভীষ্ম চরিত্রে ছিলেন।
বছর | ধারাবাহিকের নাম | চরিত্র | নথি |
---|---|---|---|
১৯৮৮-১৯৯০ | মহাভারত | ভীষ্ম | |
১৯৯০ | চুন্নি[৫] | কর্মজিৎ সিং | |
১৯৯৪-১৯৯৬ | চন্দ্রকান্ত | জানবাজ/মেঘবত | |
১৯৯৫ | বিশ্বাত্মা | ব্রহ্মঋষি বিশ্বমিত্র | |
১৯৯৫-১৯৯৬ | মার্শাল | মার্শাল | |
১৯৯৫-১৯৯৬ | শরাব | অজয়/বিজয় | |
১৯৯৬-১৯৯৮ | যুগ | ||
১৯৯৭-১৯৯৮ | বিশ্বাস | ||
১৯৯৭ | মহাযোদ্ধা | বিরাট | প্রযোজকও ছিলেন |
১৯৯৭-২০০৫ | শক্তিমান | শক্তিমান/গঙ্গাধর | প্রযোজকও ছিলেন |
২০০২-২০০৩ | আর্যমানঃ ব্রহ্মান্ড কা যোদ্ধা | আর্যমান/ওজওয়ান | প্রযোজকও ছিলেন |
২০০৩ | দিওয়ার | বিক্রম সিং | |
২০০৫ | এহসাস | দিগ্বিজয় সিং রাঠোড় | |
২০০৭ | সৌতেলা | বিক্রম আর্য | প্রযোজকও ছিলেন[৬] |
২০০৮ | কাল হামারা হে | অধ্যাপক বিমল কান্ত বিষ্ণুয়ী | |
২০০৮ | ওয়াক্ত বাতায়েগা কোন আপনা কন পারায়া | বিশ্বজিৎ চৌধুরী | |
২০০৯ | শশশশশ......ফির কোই হে[৭] | গুরুজী | |
২০১২-২০১৩ | পিয়ার কা দার্দ হে মিঠা মিঠা পিয়ারা পিয়ারা[৮] | পুরুষোত্তম দেওয়ান | |
২০১৩ | হামারা হিরো শক্তিমান[৯] | শক্তিমান | প্রযোজকও ছিলেন টেলিভিশন চলচ্চিত্র |
২০১৬ | ওয়ারিস | লালাজি[১০] |