মুঘল তাহখানা | |
---|---|
সাধারণ তথ্যাবলী | |
স্থাপত্যশৈলী | গৌড় |
অবস্থান | ছোট সোনা মসজিদ |
ঠিকানা | শিবগঞ্জ উপজেলা, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা, রাজশাহী বিভাগ |
শহর | চাঁপাই নবাবগঞ্জ |
দেশ | বাংলাদেশ |
স্থানাঙ্ক | ২৪°৪৯′০৪″ উত্তর ৮৮°০৮′১৪″ পূর্ব / ২৪.৮১৭৭৪৩° উত্তর ৮৮.১৩৭৩৩৮° পূর্ব |
স্বত্বাধিকারী | প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ |
কারিগরী বিবরণ | |
তলার সংখ্যা | ১ |
অন্যান্য তথ্য | |
কক্ষসংখ্যা | ১ |
মুঘল তাহখানা (ফার্সি: تاهخانا), বা শাহ সুজার তাহখানা একটি তিনতলা বিশিষ্ট রাজ প্রাসাদ। তোহাখানা ফার্সি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ ঠান্ডা ভবন বা প্রাসাদ। গৌড়-লখনৌতির পিরোজপুর এলাকায় একটি বড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত ভবন কাঠামোটি ঐতিহ্যগতভাবে তোহাখানা নামে পরিচিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী তোহাখানা কমপ্লেক্স বা তোহাখানা অবস্থিত।[১]
বঙ্গ সুলতান শাহ সুজা তার মুর্শিদ সৈয়দ নেয়ামতউল্লাহ এর উদ্দেশ্যে শীতকালীন বাসের জন্য পিরোজপুরে তাপনিয়ন্ত্রণ ইমারত হিসেবে এ ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন। সময়ে সময়ে শাহ সুজাও এখানে এসে বাস করতেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ হতে জানা যায়, মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পু্ত্র শাহ্ সু
জা বাংলার সুবাদার থাকাকলে ১৬৩৯-১৬৫৮ খ্.িঃ মতানরে ে ১৬—৯-১৬৬০ খ্.িঃ তার মুরশিদ হযরত শাহ সৈয়দ নেয়ামতউল্লাহর প্রতি ভক্তি নিদর্শনের উদ্দেশ্যে তাপনিয়ন্ত্রিত ইমারত হিসেবে তোহাখানা নির্মাণ করেন।[২] জনশ্রুতি আছে য, -শাহ সুজা যখন পিরোজপুরে মোরশেদ শাহ নেয়ামতউল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসতেন তখন উক্ত ইমারতের মধ্যবর্তী সুপ্রশস্ত কামরাটিতে বাস করতেন।[৩] তোহাখানা কমপ্লেক্সের ভেতরে আরো নাম না জানা অনেক সমাধি দেখা যায়। যাদের পরিচয় এখনো জানা যায় নি। তবে এদেরকে হযরত শাহ সৈয়দ নেয়ামতউল্লাহর খাদেম বা সহচর বলে ধারণা করা হয়।
গৌড়ের মত সুপ্রাচীন স্থাপত্যকর্ম তাহখানা ছাড়া অন্যত্র তেমন দেখতে পাওয়া যায় না। দ্বিতল ভবনটি মূলত ইট নির্মিত। তবে দরজার চৌকাঠের জন্য কালো পাথর এবং সমতল ছাদের জন্য কাঠের বীম ব্যবহৃত হয়েছে। পশ্চিম দিক থেকে ভবনটিকে দেখলে একতলা মনে হয়, পূর্বদিক থেকে অবশ্য দ্বিতল অবয়বই প্রকাশ পায়, যার নিচতলার কক্ষগুলি পূর্বদিকে বর্ধিত এবং খিলানপথগুলি উত্থিত হয়েছে সরাসরি জলাশয়টি থেকে। এর ছাদ এবং দেয়ালগুলো কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে তৈরি। মসজিদ এবং তাহখানা উভয়েই 'দাফে-উল-বালাহ' নামক জলাধারের পাশে অবস্থিত। দুটি বাধানো সিঁড়ি জলাধারের পানির নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। মূল প্রাসাদের উত্তর পশ্চিম দিকে আরও দুটি ভবন রয়েছে। এদের মধ্যে নিকটস্থটি হলো তিন গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ এবং অন্যটি হলো বাঁধানো বারান্দা সহ একটি গম্বুজবিশিষ্ট সমাধি। ভবনগুলো প্রায় একই সময়ে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এদের একত্রে একটি কমপ্লেক্স হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ঘরগুলি থেকে সৃষ্ট সুড়ঙ্গপথ প্রসারিত হয়ে জলাধারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। ভবনের পশ্চিমে একটি হাম্মাম (গোসলখানা) রয়েছে যাতে পানি সরবরাহের জন্য রয়েছে অষ্টভুজাকৃতির একটি কূপ। প্রাসাদের উত্তরদিকে একটি ছোট্ট পারিবারিক মসজিদ রয়েছে। এর পিছনে রয়েছে একটি খোলা ঘর যা অষ্টভুজাকার একটি দুর্গের সাথে সংযুক্ত। এ টাওয়ার কক্ষটি সম্ভবত ধ্যানের জন্য ব্যবহৃত হতো। এই অষ্টভুজাকার মিনারটি তাহখানা কমপ্লেক্সকে পূর্ণতা দান করেছে। এসব অলংকরণ রীতি মুঘল স্থাপত্যের। তাহখানা কমপ্লেক্সটি সুলতানি যুগের নগরে মুগল রীতির স্থাপত্য নিদর্শনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের স্থাপত্য বাংলায় প্রথম। এ ধরনের কমপ্লেক্সের সূত্রপাত হওয়ার পর ঢাকা ও মুর্শিদাবাদে এরূপ প্রাসাদ, মসজিদ অথবা সমাধিসৌধ সংবলিত কমপ্লেক্স একটি প্রচলিত রীতিতে পরিণত হয়।