শব্দবাহুল্য, শব্দাতিরেক, বাক্যবাহুল্য বা সংক্ষেপে বাহুল্য বলতে ভাষার মাধ্যমে কোন অর্থ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত শব্দ, শব্দগুচ্ছ বা শব্দাংশ ব্যবহার করাকে বোঝায়। যেমন "নতুন উদ্ভাবন"[১] (উদ্ভাবন মাত্রেই সংজ্ঞানুযায়ী নতুন হয়), "সবচেয়ে দীর্ঘতম"[২] ("সবচেয়ে দীর্ঘ" মানেই হল "দীর্ঘতম"), "বিরাট দৈত্য" (দৈত্যমাত্রেই সংজ্ঞানুযায়ী বিরাট আকারের হয়), "জ্বলন্ত অগ্নিশিখা", ইত্যাদি। কখনও কখনও কথ্য বাংলা ভাষাতে বিদেশী শব্দের ঠিক পরপরই এর বাংলা অনুবাদটি প্রয়োগ করে শব্দবাহুল্যের সৃষ্টি হতে দেখা যায়, যেমন - "সাপোজ ধরেন" (ইংরেজি শব্দ Suppose-এর অর্থই হল "ধরা" তথা "অনুমান করা")।
শব্দবাহুল্য কখনও কখনও লিখনশৈলীর এক ধরনের বাহুল্যদোষ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। তবে অনেকসময় অর্থের সূক্ষ্ম প্রভেদ বা দ্যোতনা সৃষ্টি করার জন্য বা পাঠকের উপরে বিশেষ প্রভাব সৃষ্টি করার জন্য লিখন-কৌশল হিসেবে শব্দবাহুল্যকে ব্যবহার করা হতে পারে। যেমন "নিকষ কালো অন্ধকার"; অন্ধকার সংজ্ঞানুযায়ী কালো বর্ণের হলেও এখানে কাব্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সূক্ষ্ম তারতম্য সৃষ্টি করতে "নিকষ কালো" শব্দগুচ্ছটি ব্যবহৃত হয়েছে। বিভিন্ন ভাষার বহু বিখ্যাত সাহিত্যিক তাদের রচনাতে শব্দবাহুল্য প্রয়োগ করেছেন।
|তারিখ=
(সাহায্য)
|তারিখ=
(সাহায্য)