শয়তানী ধর্মীয় নির্যাতন মানে একধরনের নৈতিক আতঙ্ক জাগানো মানুষের মাঝে যা ৮০-এর দশকের দিকে আমেরিকাতে শুরু হয়, পরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং পর্যায়ক্রমে সারা বিশ্বে । তবে ৯০-এর দশকের শেষের দিকে তা একেবারে কমে যায়। শয়তানী ধর্মীয় নির্যাতন জাতীয় কর্মকাণ্ডে একজন মানুষকে শারীরিকভাবে এবং যৌন হয়রানি করা হয় গুপ্তবিদ্যা বা শয়তানের উপাসনার নামে।চূড়ান্ত মাত্রার সংজ্ঞায় বলা যায় এটা এক ধরনের ষড়যন্ত্র যেখানে সারা বিশ্বের অভিজাত পরিবারের সন্তানদের অপহরণ করা হয় এবনগ তাদের লালন করা হয় উৎসর্গ করার জন্য,পর্ণোগ্রাফি এবং পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার জন্য।
১৯৮৭ সালে একটি সূচকের তালিকা প্রকাশিত হয় ক্যাথেরিন গোল্ড যেখানে তিনি বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন যে কীভাবে শয়তানী ধর্মীয় নির্যাতন করা হয়েছে ছোট বাচ্চাদের সাথে। [১] ৮০-এর দশকের শেষের দিকে সারা বিশ্বে এটা ছড়িয়ে পড়ে যেমন-স্ক্যান্ডিনেভিয়া, হল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া,ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডে। শয়তানী ধর্মীয় বিকৃতির প্রতি বিশ্বাস দ্রুত গড়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও যেখানে বিভিন্ন শিক্ষা সেমিনারের মাধ্যমে তারা বিশ্বাস করেন যে শয়তানী ধর্মের উপস্থিতি সম্পর্কে এবং এতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অদ্ভুত হারানো স্মৃতিশক্তি সম্পর্কে। এখানে প্রমাণ হিসেবে হাজির করা হয় হেভি মেটাল ব্যান্ডের অ্যালবামের কাভার, রোগী কর্তৃক আঁকা ছবি এবং অঙ্গহানি করা পশুর ছবি প্রদর্শন করে। সেমিনারে রোগীরা তাদের অভিজ্ঞটা সম্পর্কে প্রশংসাপত্র দেন এবং উপস্থাপকরা তাদের স্মৃতিশক্তি উদ্ধার সম্পর্কে জোর দেন তাদের সুস্থ হওয়ার জন্য। [২]
শয়তানী ধর্মীয় নির্যাতনের সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো ধর্মীয় আচারে নির্যাতন। [৯] বলা হয়ে ৮০-এর দশকের শুরুর দিকে একটা শয়তান উপাসকের দল তাদের গোপন উপাসনার জন্য এসব করত এবং তাদের অপরাধী কর্মকাণ্ডের মধ্যে ছিল জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা , মাদকবণ্টন এবং পর্ণোগ্রাফি।এটাও ধারণা করা হয় যে শিশুদের যৌন নির্যাতন এবং অত্যাচার করা হত শয়তানের দাস হিসেবে সারা জীবন কাজ করার জন্য। [১০] আরো মনে করা হয় তারা জোর করে মানুষের মাংস খাওয়াতো, অকালে গর্ভপাত করে সন্তানকে ভক্ষণ করাতো,জোর করে রক্ত, মল এবং বীর্যকে ব্যবহার করাতো, মানুষকে শয়তানের উদ্দেশ্য বলি দিত এবং কিছু শয়তান পুলিশ অফিসারও ছিল যারা এসব কর্মকাণ্ডের প্রমাণকে লুকিয়ে ফেলতে সাহায্য করত এবং ক্রিস্টানদের কবরের পবিত্রতা নষ্ট করত। [১১] এসব ঘটনার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নাই।যেসব প্রমাণ হাজির করা হয়েছে সেগুলো হয়ত কোন ব্যক্তির শিশুকালে স্মৃতি [১২], অত্যন্ত বিতর্কিত স্বীকারোক্তি বা কোন শিশুর প্রশংসাপত্র।